বাংলা সাময়িক পত্রের উদ্ভবকাল থেকে "বঙ্গদর্শন" পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ সাময়িক পত্রিকাগুলির পরিচয় দিন ও এই পত্রপত্রিকার আশ্রয়ে বাংলা গদ্য কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা করুন ।

Submitted by avimanyu pramanik on Fri, 05/01/2020 - 10:06

মুদ্রণযন্ত্র, বারুদ আর চুম্বক দুনিয়ার চেহারা বদলে দিয়েছে — এই কথাটি প্রথম ফ্রান্সিস বেকন বলেছিলেন । ভারতবর্ষে পান্ডুলিপির একচ্ছত্র রাজত্বে মুদ্রণের উদ্ভাবন ঐতিহাসিক কারণেই বিলম্বিত ছিল । ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে নাথানিয়েল ব্রাসী হ্যালহেড রচিত "A grammar of the Bengal Language" নামক গ্রন্থ প্রকাশ করার সময় বাংলা হরফের ধাতব আত্মপ্রকাশ ঘটে । এই ব্যাকরণ গ্রন্থে কৃত্তিবাসের রামায়ণ, কাশীরাম দাসের মহাভারত ও ভারতচন্দ্রের বিদ্যাসুন্দর থেকে কিছু দৃষ্টান্ত নেওয়া হয় ।

১৮০০ সালে শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশনের প্রতিষ্ঠা হয় । সেই বছরই কলকাতায় লর্ড ওয়েলেসলীর উদ্যোগে ফোর্টউইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় । দুইয়ে মিলে বাংলা সাহিত্য বিশেষ করে গদ্য সাহিত্যের প্রভূত উন্নতি হয় । গদ্যের শৈশবে তার শরীর ও মন গড়ার কাজে বিশেষ ভূমিকা থাকে ছাপাখানার । উইলিয়াম কেরী শ্রীরামপুরের ছাপাখানায় একের পর এক যে গ্রন্থগুলি প্রকাশ করলেন তাতে বাংলাদেশের হৃদপিন্ডের স্পন্দন সঞ্চারিত হয় । ১৮০১ সাল থেকে ১৮৩২ সালের মধ্যে শ্রীরামপুরের ছাপাখানা থেকে ৪০টি ভাষায় ২,১২,০০০ বই প্রকাশিত হয় । শ্রীরামপুর মিশন বাংলা বই প্রকাশ করে প্রথম, পরে প্রকাশ করেন "দিগদর্শন" ও "সমাচার দর্পন" । বাংলা তথা ভারতের সর্বপ্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র হিকির "বেঙ্গল গেজেট" । এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটি ১৭৮০ সালে প্রকাশিত হয় । এরপর "ইন্ডিয়া গেজেট", "ক্যালকাটা গেজেট", "হরকরা" ইত্যাদি পত্রিকা ১৭৮০ সাল থেকে ১৮১৮ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয় । ১৮১৮ সালের জুন মাসে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের সাপ্তাহিক পত্রিকা "বেঙ্গল গেজেট" প্রকাশিত হয় । এটি বাঙালি কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম সাময়িক পত্র । সাময়িক পত্রিকায় বাংলা ভাষার প্রথম ব্যবহার হয় ১৮১৮ সালে, শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত "দিগদর্শন" নামে একটি ক্ষুদ্রায়তন মাসিক পত্রিকায় । পত্রিকাটির প্রথমবর্ষের প্রথম সংখ্যা ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে আত্মপ্রকাশ করে । পত্রিকাতে ভূগোল, ইতিহাস, দেশবিদেশের জ্ঞাতব্য তথ্য, কৌতুককর বা বিস্ময়কর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাহিনি প্রকাশিত হত । দিকদর্শনের ভাষা ও বিষয়বস্তু উভয়ই ছিল বিদ্যালয়ে ব্যবহারের উপযোগী । সেইজন্য স্কুল বুক সোসাইটির বিদ্যালয়গুলিতে "দিগদর্শন" পাঠ্যপুস্তক হিসাবে গৃহীত হয় ।

"দিগদর্শন" -এর পর উল্লেখযোগ্য বাংলা পত্রিকা "সমাচার দর্পন" । ১৮১৮ সালের মে মাসে এই পত্রিকাটির সাপ্তাহিক প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় । পত্রিকাটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন উইলিয়াম কেরীর জেষ্ঠ্য পুত্র ফেলিক্স কেরী ও জনক্লার্ক মার্শম্যান । এই পত্রিকা জন্মকাল থেকেই কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতা করে । কিন্তু কোম্পানির কোনো কোনো কাজের সমালোচনায় পত্রিকাটি নীরব থাকে । "সমাচার দর্পন" -এর জীবনকাল ছিল প্রায় অর্ধশতাব্দী । ১৮২৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সমাচার দর্পন লিখছে— "এই দেশে পূর্বকালে কতক কতক লোকের ঘরে পুস্তক ছিল এবং অন্ধলোক বিদ্যাভাস করিত অন্য অন্য সকল লোক অন্ধকারে থাকিত এখন এই দেশে ....বিদ্যা প্রচলিতা হইতেছে" ইত্যাদি । —উদ্ধৃত অংশে বিরতি চিহ্ন বসিয়ে নিলে আমরা তা স্বচ্ছন্দেই পাঠ করিতে পারি । লক্ষণীয় বিষয় হল, বিদ্যার সঙ্গে প্রচলিতার অন্বয় অর্থাৎ, বিদ্যাকে এখানে স্ত্রীবাচক শব্দরূপে ধরা হয় । বিদেশীর পক্ষে এমন স্বচ্ছন্দ বাংলা লেখা সত্যিই বিস্ময়কর ।

"সমাচার দর্পন" -এ মাঝে মাঝে হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে লেখা হত । রাজা রামমোহন রায় এতে ক্ষুব্ধ হন । ১৮২১ সালে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় তিনি প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক "সংবাদ কৌমুদী" । এতে ভারতীয় হিন্দুধর্মের সমর্থন করে খ্রিষ্টধর্মের ত্রুটি বিচ্যুতি তুলে ধরা হত । রাজা রামমোহন ছিলেন প্রগতিশীল, ভবানীচরণ ছিলেন প্রাচীনপন্থী । তাই অচিরেই দু'জনের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয় । ভবানীচরণ "সংবাদ কৌমুদী" বর্জন করে ১৮২২ সালের মার্চ মাসে "সমাচার চন্দ্রিকা" নামে এক সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশ করেন । এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, ১৮২১ সালে রাজা রামমোহনের আরো একটি পত্রিকা "ব্রাহ্মণ সেবধি" প্রকাশিত হয় । এই পত্রিকায় ঔপনিষদিক ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য রাজা রামমোহন সচেষ্ট হন ।

"সংবাদ কৌমুদী" ও "সমাচার চন্দ্রিকা" -কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জনমত রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় । কিছুদিনের মধ্যে দুই মতাদর্শে অনুপ্রাণিত বহু পত্রপত্রিকার উদ্ভব ঘটে । এগুলির মধ্যে স্কুল বুক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত "পশ্বাবলী". "সংবাদ তিমির নাশক", "বঙ্গদূত", "জ্ঞানান্বেষণ" ও "বিজ্ঞানসেবধি" বিশেষভাব উল্লেখযোগ্য । ডিরোজিও গোষ্ঠীর মুখপত্র ছিল "জ্ঞানান্বেষণ" । "জ্ঞানান্বেষণ" ১০ বছর বর্তমান ছিল । স্বাধীন চিন্তাধারা প্রকাশের জন্য পত্রিকাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রতিফলন ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষার দাবি প্রতিষ্ঠিা "বঙ্গদূত" পত্রিকার অবদান উল্লেখযোগ্য ।

ক্রমে সংবাদপত্রকে কেন্দ্র করে একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে । মৌলিক সাহিত্য রচনার অভিনব উপকরণে গদ্যের ভান্ডার পূর্ণ হতে থাকে । ১৮৩১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাপ্তাহিক "সংবাদ প্রভাকর" প্রকাশের পরই গদ্যসাহিত্য রচনায় তৎপরতা দেখা যায় ।  "সংবাদ প্রভাকর" সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্রের মন্তব্য— "এই প্রভাকর ঈশ্বরগুপ্তের অদ্বিতীয় কীর্তি ......বাঙ্গালাসাহিত্য এই প্রভাকরের কাছে বিশেষ ঋণী' । ১৮৩৯ সালে এটি দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয় । ভারতীয় ভাষায় সংবাদ প্রভাকর ছিল প্রথম দৈনিক পত্রিকা । ঈশ্বরগুপ্ত এই পত্রিকায় বাংলা গদ্যকে আগের গুরুভার ও জড়তা থেকে মুক্তি দিয়ে সাংবাদিক সুলভ লঘু বাক্য গঠনপ্রণালী তুলে ধরেন । সমালোচকদের মধ্যে সাংবাদিক রচনারীতির স্রষ্টা বলেই ঈশ্বরগুপ্ত গদ্যসাহিত্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন । মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের উদ্যোগে অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় ১৮৪৩ সালে "তত্ত্ববোধিনী" পত্রিকার প্রতিষ্ঠা ঘটে । বাংলা গদ্যের পুষ্টি সাধনে এই পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখযোগ্য । একদিন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ সংস্কৃত গ্রন্থের একখানা ছেঁড়া পাতা উড়ে যেতে দেখে তা কুড়িয়ে নিলেন । উদ্ধৃত পাতাটি ছিল ঈশোপনিষদের । যে আধ্যাত্মিক সত্য সেখানে তিনি খুঁজে পান, উপনিষদের সেই মর্মার্থ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই পত্রিকাটি প্রকাশের পরিকল্পনা করেন । দার্শনিক চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক মনন বাংলা গদ্যের মাধ্যমে প্রকাশ করে সহযোগী অক্ষয়কুমার গদ্য শিল্পকে অসামান্য মর্যাদা দেন ।

বাংলা গদ্যের বিবর্তনের ইতিহাসে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের ১৮৫৪ সালে প্রকাশিত 'মাসিকপত্র' বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে । কথ্য গদ্য ভাষাকে সাহিত্যে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে পত্রিকাটি বিপ্লব সৃষ্টি করে । এই প্রসঙ্গে প্যারীচাঁদ মিত্রের "আলালের ঘরের দুলাল" উল্লেখযোগ্য ।

১৮৫৫ সালে কালীপ্রসন্ন সিংহের "বিদ্যোৎসাহিনী" পত্রিকা প্রকাশিত হয় । তিনি "হুতুম প্যাঁচার নক্সা" প্রকাশ করে চলিত রীতির সাহিত্যিক উপযোগিতা প্রতিপন্ন করেন । ১৮৫৮ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পরিকল্পনায় ও দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় "সোমপ্রকাশ" -এর প্রকাশ ঘটে । জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে "সোমপ্রকাশ" । বিধবা বিবাহ আন্দোলনে এই পত্রিকার বিশেষ অবদান স্মরণীয় । ১৮৬৩ সালে "অবোধবন্ধু" পত্রিকা প্রকাশিত হয় । রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবন স্মৃতিতে প্রভাতী শুকতারা বলে প্রশংসা করে এই পত্রিকার উপযোগিতা স্বীকার করেন ।

বঙ্গসাহিত্যে এরপর ১৮৭২ সালে প্রভাত সূর্যের দীপ্তি নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের "বঙ্গদর্শন" -এর প্রকাশ ঘটে । তাই "বঙ্গদর্শন" সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উচ্ছ্বসিত উক্তি স্মরণীয়— "কোথায় গেল সেই বিজয়বসন্ত, কোথায় গেল গোলেবকাউলি —  কোথায় গেল সব ছেলে ভুলানো ছড়া, অনেক আলো, স্বপ্ন ও আশাক্রমে বঙ্গসাহিত্যের প্রাঙ্গণ ভরে দিল" । বঙ্গদর্শনের সূচনায় বঙ্কিমচন্দ্র লেখেন, "এই পত্র আমরা কৃতবিদ্যা সম্প্রদায়ের হস্তে আরও এই কামনায় সমর্থন করলাম যে, তাঁহারা ইহাকে আপনাদিগের বার্তাবহ স্বরূপ ব্যবহার করুন । বাঙালি সমাজে ইহা তাহাদিগকে বিদ্যা, কল্পনা, লিপি কৌশল এবং চিত্তোৎকর্ষের পরিচয় দিক " । "বঙ্গদর্শন" এই নামের মধ্য বঙ্কিমচন্দ্রের আশা আকাঙ্ক্ষা সুস্পষ্ট । বাঙালি জাতির সর্বাত্মক উন্নতির মাধ্যম হিসাবে তিনি এই পত্রিকাকে দেখতে চান । বলাবাহুল্য বঙ্কিম প্রতিভার যা কিছু স্মরণীয়— তাঁর "কপালকুন্ডলা"র মতো উপন্যাস কিংবা "কমলাকান্তের দপ্তর" -এর মতো অসাধারণ রচনা সবই এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছে । "বঙ্গদর্শন" -এর আগে পর্যন্ত বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাস এক নতুন যুগের প্রস্তুতির ইতিহাস, বঙ্গদর্শন সেই প্রস্তুতির পূর্ণ পরিণতি । বাংলা গদ্যরীতির গঠনে ও গদ্যরচনার শাখা-প্রশাখা বিস্তারে সাময়িক পত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে । ডঃ সুকুমার সেন যথার্থই মন্তব্য করেন বাংলা সাহিত্যে খোলা হাওয়ার বাতায়ন খুলে দেয় সাময়িক পত্রিকা ।

সাময়িক পত্রিকার শুধুমাত্র চলতিকালের চঞ্চলতাই ধরা পড়ে না, চিরকালের জন্য কিছু থেকে যায় । আধুনিক সভ্যতার ওপর সাময়িক পত্রিকার প্রভাব তাই দূরস্পর্শী । একথা স্বীকার্য যে সংবাদ মূলত সাহিত্য নয় । তবু ভাষার বিকাশে সাময়িক পত্র একটি বড় ভূমিকা পালন করে । বাংলা গদ্যের বিকাশে আমরা লক্ষ্য করি সাময়িক পত্র বাংলা গদ্যের সরলীকরণে সহায়ক ভূমিকা নেয়, কারণ লোক জীবনের অধিকাংশের কাছে সাময়িক পত্রিকা পৌঁছে যেতে চায় । আবার বাংলাভাষার ক্রমপরিণতির দিকচিহ্নগুলিও তৎসাময়িক পত্রিকাগুলির পৃষ্ঠাতে আমরা খুঁজে পাই । দৃষ্টান্ত হিসাবে "সমাচার চন্দ্রিকা"-র প্রকাশিত ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "নববাবু বিলাস" ও "নববিবি বিলাস" শীর্ষক ব্যঙ্গরচনার কথা উল্লেখ করা যায় । সেকালের ভারসাম্যহীন নাগরিক জীবনকে বিদ্রূপ করে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীক্ষ্ণ সমাজ চিন্তার পরিচয় দেন । এইসব রচনায় তৎসম শব্দের সঙ্গে আরবি-ফার্সীর সুষম প্রয়োগ ঘটে । অন্যদিকে, রাজা রামমোহন রায়ের "সংবাদ কৌমুদী" র পৃষ্ঠায় আমরা পাই প্রতিবাদের ভাষা । ধর্ম ও সংস্কার বিষয়ক বিতর্ক মূলক রচনা প্রকাশ করলেন রাজা রামমোহন রায় । বাঙালি পাঠক বিস্মিত হয়ে দেখেন বাংলা ভাষা বাদ-প্রতিবাদের তর্কযুদ্ধে কীভাবে নতুন শক্তি সঞ্চয় করেছে । এরপর এল ঈশ্বরগুপ্তের "সংবাদ প্রভাকর" । "তত্ত্ববোধিনী" ও "সোমপ্রকাশ" -এর ভাষার তুলনায় প্রভাকরের গদ্যের লয় ছিল দ্রুত । সংবাদপত্রের উপযোগী লঘু ধরনের বাক্য গঠন প্রণালী উপহার দেন তিনি । তবে বাংলা গদ্যের বিস্ময়কর সমুন্নতি ঘটে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বঙ্গদর্শনেই ।

******

Comments

Related Items

চরিতসাহিত্য ও চরিতামৃত —এই দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য ও চৈতন্য জীবনী কাব্যকে কোন শ্রেণির রচনা হিসাবে গণ্য করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করুন ।

শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাবের পর এক অভূতপূর্ব স্রোত বঙ্গভুমিকে প্লাবিত করে । কাব্যে, সঙ্গীতে, জীবনে— সেই প্রাণপ্রৈতির প্রকাশ যে রূপে ও স্বরূপে ঘটে, তাকে আমরা সে যুগের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলতে পারি । ভারতীয় ভাষা সাহিত্যে অপূর্ব জীবনী সাহিত্য শ্রীচৈতন্যের জীবনালোকে লিপিবদ্ধ হয় ।

সাধু ও চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে একটি রচনা করুন ।

বাংলা ভাষার লেখ্যরীতিকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়— সাধু ও চলিত ভাষা । বাংলা গদ্যের সূত্রপাত থেকে এই দুই রীতি পাশাপাশি চলে এসেছে । কাব্যে ব্যবহৃত মধ্যযুগের বাংলা থেকেই যে আধুনিক সাধু ভাষার ক্রমিক উন্নয়ন, ভাষাচার্য ডঃ সুকুমার সেন তার চমৎকার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন ।

বাংলা ভাষার ধ্বনি পরিবর্তনের কারণগুলি উল্লেখ কর, তৎসহ ধ্বনি পরিবর্তনের ধারাগুলির পরিচয় দাও এবং এ প্রসঙ্গে অপিনিহিতি, স্বরসঙ্গতি এবং সমীভবন বিষয়ে টীকা লেখ ।

বাংলা একটা প্রাণবন্ত চলমান ভাষা । বহু বছরের ধীর ও ধারাবাহিক বিবর্তনে বাংলা ভাষার বর্ণ ও সংযুক্ত বর্ণের মূল ধ্বনির নানা পরিবর্তন ঘটেছে । ধ্বনির পরিবর্তনশীলতা বাংলা ভাষাকে আরো আন্তরিক ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে । এই পরিবর্তনের পিছনে যে যে কারণগুলি রয়েছে সেগুলি হল

'রবীন্দ্র সাহিত্যে সাধারণ মানুষ'— এ বিষয়ে একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

'দুই বিঘা জমি' কবিতাটিই প্রথম কবিতা যেখানে বাংলা সাহিত্য প্রথম এক ভূমিহীন কৃষকের জন্য দু ফোঁটা চোখের জল ফেলেছে । জন্মসূত্রে রবীন্দ্রনাথ পরশ্রমজীবী মানব গোষ্ঠীর অন্তর্গত । শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তাঁর সহানুভূতি না থাকাই স্বাভাবিক ।