বর্জ্যের উৎস (Source of waste)

Submitted by avimanyu pramanik on Thu, 10/28/2021 - 11:26

বর্জ্যের উৎস (Source of waste) : বর্তমান আধুনিক নাগরিক সভ্যতায় মানুষের নানাবিধ কার্যকলাপেরপরিধিই হল বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের উৎসের প্রধান ক্ষেত্র । বর্জ্যের উৎসের প্রধান ক্ষেত্রগুলি হল — (১) গৃহস্থালির বর্জ্য, (২) শিল্প বর্জ্য, (৩) কৃষিজ বর্জ্য,  (৪) পৌরসভার বর্জ্য, (৫) জৈব বর্জ্য, (৬) চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য, (৭) তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ।

(১) গৃহস্থালির বর্জ্য (Domestic waste) : বাড়িতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যে-কোনো কঠিন, তরল কিংবা গ্যাসীয় পদার্থ, যেগুলি আমাদের কোনো কাজে লাগে না অর্থাৎ ফেলে দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলিকে গৃহস্থালির বর্জ্য বলে । যাবতীয় বর্জ্যের মধ্যে গৃহস্থালী বর্জ্যের পরিমাণই সর্বাধিক । গৃহস্থালী বর্জ্যের প্রধান উৎসগুলি হল—

(i) রান্নাঘরের বর্জ্য : যেমন : শাকসবজির খোসা, ফল ও খাবারের অবশিষ্টাংশ, পোড়া তেল প্রভৃতি ।

(ii) পরিতক্ত বর্জ্য : প্লাষ্টিক প্যাকেট, অব্যবহৃত কাগজ ও বোর্ড, অকেজো ধাতব ও বৈদ্যুতিন ভোগ্যপণ্য প্রভৃতি ।

(iii) তরল বর্জ্য : রান্না ঘারের থালা-বাসন ধোয়া জল, ঘরমোছা জল, সাবান জল, শৌচাগারের জল, জামা-কাপড় কাচা বা ধোয়া জল ইত্যাদি ।

(২) শিল্প বর্জ্য (Industrial waste) : এই প্রকার বর্জ্যের প্রধান উৎসগুলি হল—

(i) কৃষিভিত্তিক শিল্পের বর্জ্য : কৃষিজ কাঁচামালের আবর্জনা, আখের ছিবড়া, তরল রাসায়নিক বর্জ্য এবং অন্যান্য জৈব ও অজৈব বর্জ্য ।

(ii) ধাতব ও রাসায়নিক শিল্পের বর্জ্য : ধাতব ও কাঁচামালের ছাঁট, রং, রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত জল, গরম জল প্রভৃতি ।

(iii) শক্তি উৎপাদনকেন্দ্রের বর্জ্য : বিষাক্ত ধোঁয়া, ছাই এবং তেজস্ক্রিয় তরল ও গ্যাসীয় বর্জ্য ।

(iv) অন্যান্য শিল্পের বর্জ্য : ভারি শিল্প, স্থাপত্য নির্মাণশিল্প, বৈদ্যুতিন প্রভৃতি শিল্পের বিভিন্ন কঠিন ও অজৈব বর্জ্য ।

(৩) কৃষিজ বর্জ্য (Agricultural waste) : কৃষিকাজের মাধ্যমে সৃষ্ট বর্জ্যগুলি হল কৃষিজ বর্জ্য । কৃষিজ বর্জ্যগুলি প্রধানত তিন রকমের হয় ।   

(i) জৈব বর্জ্য : আগাছা, শস্যের কান্ড ও শিকড়ের অবশেষ, পাতা, তুলোর খোসা, আখের ছিবড়া, নারকেল ছোবড়া প্রভৃতি ।

(ii) বিষাক্ত বর্জ্য : রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ওষুধের জৈব, অভঙ্গুর বর্জ্য ।

(iii) তরল বর্জ্য : পচা পাতা, পাট পচানো জল এবং কৃষিক্ষেত্র থেকে নির্গত দূষিত জল ।

(৪) পৌরসভার বর্জ্য (Municipal waste) : পৌরসভার কার্যকলাপের দ্বারা সৃষ্ট বর্জ্যগুলি হল পৌরসভার বর্জ্য । পৌরসভার অন্তর্গত বিভিন্ন বর্জ্য যেমন, (i) রাস্তা ও নর্দমার আবর্জনা, (ii) পার্ক ও অন্যান্য বিনোদন ক্ষেত্রের আবর্জনা, (iii) জল পরিশোধনকেন্দ্র থেকে নির্গত বর্জ্য প্রভৃতি । এই প্রকারের বর্জ্য কঠিন, তরল ও অর্ধতরল প্রকৃতির হয়ে থাকে ।

(৫) জৈব বর্জ্য (Organic waste) : জৈব বর্জ্যের প্রধান উৎস হল— (i) খাদ্যদ্রব্যের অবশিষ্টাংশ, (ii) চা, চিনি ও নুনের থলেব্যাগ, (iii) দাঁতের কাঠি, টিস্যু কাগজ ও ন্যাপকিন, (iv) ভিজে কাগজ ও কার্ডবোর্ড, (v) মিশ্রসার, (vi) পোলট্রি ফার্ম ও খাটালের আবর্জনা, (vii) মৃত পশুপাখির দেহ প্রভৃতি ।

(৬) চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য (Bio-medical waste) : চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে সৃষ্ট বর্জ্যগুলি হল চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য । এগুলি প্রধানত তিন প্রকার হয়ে থাকে (i) জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য : তুলো, গজ, কাপড়, ন্যাপকিন, অস্ত্রোপচার করা দেহের অংশ প্রভৃতি । (ii) জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য : ওষুধের বোতল ও প্যাকেট, ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জ ও সুঁচ ইত্যাদি । (iii) তরল বর্জ্য : হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধোয়া নোংরা জল, তরল, ওষুধের বর্জ্য প্রভৃতি ।

(৭) তেজস্ক্রিয় বর্জ্য (Radioactive waste) : (i) বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনকেন্দ্র, (ii) পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র, (iii)  জেট বিমান ও রকেট প্রভৃতি থেকে নানা প্রকারের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় প্রকৃতির তেজস্ক্রিয় বর্জ্য উৎপন্ন হয় ।

*****

Comments

Related Items

কাবেরী নদী (The Kaveri)

কাবেরী নদী (The Kaveri) : কর্ণাটক রাজ্যের তালাকাভেরি উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে কাবেরী নদী কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্য দিয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে । কাবেরী নদীর দৈর্ঘ্য ৭৬৫ কিমি.

কৃষ্ণা নদী (The Krishna)

কৃষ্ণা নদী (The Krishna) : পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মহাবালেশ্বরের শৃঙ্গের কিছুটা উত্তরে প্রায় ১৪০০ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হওয়ার পর কৃষ্ণা নদী দক্ষিণ-পূর্বে তেলেঙ্গানা ও অন্ধপ্রদেশ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিশাল বদ্বীপ সৃষ্টি করে

গোদাবরী নদী (The Godavari)

গোদাবরী নদী (The Godavari) : গোদাবরী নদী 'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' নামে পরিচিত । মহারাষ্ট্রের ব্রম্ভগিরি পাহাড়ের ত্র্যম্বক শৃঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়ে এবং পরে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে গোদাবরী নদী মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ

মহানদী (The Mahanadi)

মহানদী (The Mahanadi) : ছত্তিসগড় রাজ্যের রায়পুর জেলার দক্ষিণাংশের সিয়াওয়া মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্য অতিক্রম করার পর বদ্বীপ সৃষ্টি করে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে । মহানদী

তাপী নদী (The Tapti)

তাপী বা তাপ্তি নদী (The Tapti) : মধ্যপ্রদেশের মহাদেব পর্বতের মুলতাই উচ্চভূমির প্রায় ৭৭০ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হয়ে তাপী নদী মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের ওপর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে সাতপুরা ও অজন্তার মধ্যবর্তী সংকীর্ণ উপত