WB Class IX

মির কাশিম

মিরকাশিম [Mir Kasim]:- কোম্পানির প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ এবং বর্ধমান, মেদিনীপুর, চট্টোগ্রামের জমিদারি প্রদানের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মিরকাশিম বাংলার মসনদ লাভ করেন ।  ইংরেজদের সাহায্যে বাংলার মসনদ দখল করলেও তিনি ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ ছিলেন না, বরং বাস্তববাদী ছিলেন । অহেতুক ইংরেজ বিরোধিতা তাঁর কাম্য ছিল না ।  তিনি সব সময়েই ইংরেজদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে চেয়েছিলেন । অনেকের মতে, তিনি  স্বাধীনচেতা পুরুষ ছিলেন এবং মিরজাফরের মতো ইংরেজদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকতে চাননি ।  তাই তাঁর সঙ্গে ইংরেজদের সংঘর্ষ হয়েছিল । এই ধরনের ব্যাখ্যা ভিত্তিহীন । আসলে তিনি ইংরেজদের সঙ্গে সব সময় বোঝাপড়ার রাস্তা খুলে রাখতেই চেয়েছিলেন

মিরজাফর

মিরজাফর [Mir Jafar]:- চক্রান্ত, শঠতা ও বিশ্বাসঘাতকতার পথ ধরে বাংলার মসনদ দখল করলেও মিরজাফর গোড়া থেকেই তাঁর অসহায় এবং অক্ষম অবস্থার কথা বুঝতে পেরেছিলেন । আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমস্যার চাপে তিনি ইংরেজদের উপর নির্ভরশীল ছিলেন । তাঁর বিরুদ্ধে যে সব বিদ্রোহ হয়েছিল বা মুঘল সম্রাট শাহ আলম যখন বাংলা আক্রমণ করলেন, ইংরেজদের সাহায্যেই তিনি তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হন ।  ইংরেজদের হাত থেকে বেরিয়ে আসবার মতো দৃঢ়তা বা ব্যক্তিত্ব তাঁর ছিল না । কাজেই ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ থকে ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি নামে মাত্র নবাব ছিলেন ।  আসল ক্ষমতার চাবিকাঠি ছিল ইংরেজদের হাতে ।

নবাব সিরাজের সাফল্য ও ব্যর্থতা এবং পলাশির যুদ্ধের গুরুত্ব

সিরাজ-উদ-দৌলার সাফল্য ও ব্যর্থতা :- প্রথমদিকে সিরাজ-উদ-দৌলার সাফল্য ছিল আশাতিত । তিনি বিনা রক্তপাতে মাসি ঘসেটি বেগমকে মুর্শিদাবাদ প্রাসাদে নজরবন্দি করেন । অপর প্রতিদ্বন্দ্বী আলিবর্দি খানের দ্বিতীয় কন্যার পুত্র পূর্ণিয়ার নবাব সৌকত জঙ্গকে মনিহারির যুদ্ধে পরাজিত করে সিংহাসন নিষ্কণ্টক করেন । তার আগেই তিনি ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২০ শে জুন কলকাতা দখল করে ইংরেজদের উচিত শিক্ষা দেন । এই কলকাতা দখলের সঙ্গে বহু বিতর্কিত হলওয়েল উদ্ভাবিত অন্ধকূপ হত্যার কাহিনি প্রচলিত আছে । একটি রুদ্ধ কক্ষে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করা হয়েছিল । জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে নাকি এদের মধ্যে ১২৩ জনের

সিরাজ-উদ-দৌলা ও পলাশির যুদ্ধ

সিরাজ-উদ-দৌলা ও পলাশির যুদ্ধ [Sirajuddowla and The Battle of Plassey] :- পলাশির যুদ্ধের দুটি দিক ছিল । (১) ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের বিরোধ ও (২) বাংলার মসনদ দখলে মিরজাফরের উচ্চাকাঙ্খা ।

বাংলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তন

বাংলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তন :- কর্ণাটকে যখন ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব চলছিল, মোটামুটি প্রায় সেই সময় বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হচ্ছিল ।  ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৭৬৫ খ্রীষ্টব্দের মধ্যে বাংলার কর্তৃত্ব স্বাধীন নবাবদের হাত থেকে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায় । তিনটি পর্বে এই পরিবর্তন হয়েছিল–

(১) ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধ,

(২) ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে মীরজাফরের অপসারণ ও মিরকাশিমের উত্থান  এবং

(৩) ১৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে মিরকাশিমের পরিবর্তে আবার মিরজাফরের সিংহাসন লাভ ।

তৃতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধ

তৃতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধ [Third Carnatic War] :- সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে ভারতেও ইঙ্গ-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় ।  কিন্তু ডুপ্লের মতো কোন যোগ্য নেতার অনুপস্থিতিতে ফরাসিরা যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছিল । এই সময়ে কর্ণাটকে যুদ্ধের দায়িত্বে ছিলেন লালি ।  কিন্তু সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার ভালো ছিল না ।  ফলে ফরাসিদের মধ্যে একতা ছিল না । লালি ১৭৫৮ খ্রীষ্টাব্দে ফোর্ট সেন্ট ডেভিড অধিকার করেন ।  কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্বের জন্য ফরাসিরা মাদ্রাজ দখল করতে ব্যর্থ হয় ।  এই সময় লালি একটি মারাত্মক ভুল করেন ।  তিনি বুসিকে হায়দরাবাদ থেকে ডেকে পাঠান । ফলে হায়দরাবাদ