Physical Science

তড়িৎ-বিশ্লেষণের প্রয়োগ

তড়িৎ-বিশ্লেষণের প্রয়োগ [Application of Electrolysis] :-

তড়িৎ-বিশ্লেষণের নীতি প্রয়োগ করে—

(i) ধাতু নিষ্কাশন: তীব্র তড়িৎ-ধনাত্মক ধাতুগুলি যেমন— সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ধাতুগুলিকে তাদের আকরিক থেকে নিষ্কাশিত করা হয় । আবার কতকগুলি ধাতু যেমন— কপার, জিঙ্ক, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতির তড়িৎ-বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিশোধন করা হয় ।

(ii) ইলেকট্রো-টাইপ তৈরিতে বা তড়িৎ লেপনে তড়িৎ-বিশ্লেষণের নীতিকে ব্যবহার করা হয় ।

কপার সালফেটের জলীয় দ্রবণের তড়িৎবিশ্লেষণ

কপার সালফেটের জলীয় দ্রবণের তড়িৎবিশ্লেষণ :- CuSO4 জলে আয়নিত হয়ে Cu2+ এবং SO42- আয়ন উত্পন্ন করে । সুতরাং, জলীয় দ্রবণে চার প্রকার আয়ন থাকে, দুধরনের ক্যাটায়ান H+ ও Cu2+ এবং দু ধরনের অ্যানায়ন OH-SO42-  ।

জলের তড়িৎ-বিশ্লেষণ

জলের তড়িৎ-বিশ্লেষণ [Electrolysis of Water] :-

বিশুদ্ধ জল তড়িতের কুপরিবাহী, কিন্তু সামান্য অ্যাসিড কিংবা ক্ষার জলে মেশালে ওই জল তড়িতের সুপরিবাহী হয় । এর কারণ হল বিশুদ্ধ জলে খুব কম সংখ্যক অণু H+ এবং OH-  আয়নে বিশ্লেষিত অবস্থায় থাকে । ওই জলে সামান্য অ্যাসিড কিংবা ক্ষার যোগ করলে এদের আয়ন বিশ্লেষণের ফলে ওই জলের বিয়োজন মাত্রা বেড়ে যায়, তার ফলে জলের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা বাড়ে এবং তখনই তড়িৎ পরিবহন করে ।

তড়িৎ-বিশ্লেষ্য ও তড়িৎ-অবিশ্লেষ্য পদার্থ

তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থ [Electrolytes]:-

সংজ্ঞা:- যেসব পদার্থ জলে দ্রবীভূত বা গলিত অবস্থায় আয়নে বিশ্লিষ্ট হয়ে তড়িৎ পরিবহন করে এবং তড়িৎ পরিবহনের ফলে নিজেরা রাসায়নিকভাবে বিশ্লিষ্ট হয়ে নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উত্পন্ন হয়, সেই সব পদার্থকে তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে ।

[i] অ্যাসিড:- সালফিউরিক, নাইট্রিক, হাইড্রোক্লোরিক প্রভৃতি ।

[ii] ক্ষার:- কস্টিক সোডা, কস্টিক পটাশ ইত্যাদি ।

[iii] লবণ:- সোডিয়াম ক্লোরাইড, জিঙ্ক সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি । 

তড়িৎ-পরিবাহী এবং তড়িৎ-অপরিবাহী

তড়িৎ-বিশ্লেষণ : তড়িৎ-বিশ্লেষ্য ও তড়িৎ-অবিশ্লেষ্য পদার্থ [Electrolysis : electrolytes and non-electrolytes]:-

তড়িৎ-পরিবাহী এবং তড়িৎ-অপরিবাহী [Conductor and Non-Conductor] :-

জারণ ও বিজারণ একসঙ্গে ঘটে

জারণ ও বিজারণ একসঙ্গে ঘটে [Oxidation and reduction take place simultaneously]:-

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারণ ও বিজারণ প্রক্রিয়া একই সঙ্গে ঘটে । অর্থাৎ, জারণ ও বিজারণ ক্রিয়া পরস্পরের পরিপূরক । কোনো বিক্রিয়ায় জারণ-ক্রিয়া ঘটলেই বিজারণ ক্রিয়াও ঘটবে । এই রকম রাসায়নিক বিক্রিয়াকে রেডক্স বিক্রিয়া [Redox reaction] বলা হয় ।