Physical Science

কার্যকরী মূলক বা পরিচায়ক শ্রেণি

যেসব মূলক, জৈব যৌগের অণুতে উপস্থিত থেকে যৌগগুলির রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারণ করে, সেসব সক্রিয় মূলককে কার্যকরী মূলক [Functional group] বলে ।

জৈব যৌগের বন্ধন প্রকৃতি

একাধিক কার্বন পরমাণু এক-বন্ধন (-) (single bond), দ্বি-বন্ধন (=) (double bond) বা ত্রি-বন্ধন (≡) (triple bond) দ্বারা পরস্পর যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জৈব যৌগ গঠন করতে পারে ।

জীবজ অণু [Biomolecules]

সজীব কোশে সংশ্লেষিত ক্ষুদ্র অণু ও বৃহদ অণুকে একত্রে জীবজ অণু বলা হয় । প্রায় সমস্ত জীবজ অণুই কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, নিউক্লীয়িক অ্যাসিড, লিপিড এই চারটি শ্রেণির কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত । এগুলি কোশের জীবজ পলিমার । কার্বোহাইড্রেট সরল সুগারের (যেমন: গ্লুকোজ), প্রোটিন অ্যামিনো অ্যাসিডের, নিউক্লীয়িক অ্যাসিড মনোনিউক্লিওটাইডের এবং লিপিড ফ্যাটি অ্যাসিডের জীবজ পলিমার । কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং সালফার এই ছয়টি মৌলিক পদার্থ নিয়ে জীবজ অণুগুলি গঠিত ।

জীবনক্রিয়ায় জৈব যৌগের ভুমিকা

প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহের বেশির ভাগ অংশ জৈব যৌগ দিয়ে গঠিত । তাই জীব জগতে জৈব যৌগের দান অতুলনীয় । জীবন ক্রিয়ার সঙ্গে জৈব যৌগ গভীর ভাবে জড়িত । জীবদেহের জীবনক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য জৈব যৌগের ভূমিকা অপরিসীম । জীবজগতে প্রত্যেক জৈবিক ক্রিয়ার কারণ হল জীবদেহে জৈব যৌগের ক্রিয়া । (i) দেহের পুষ্টি সাধন, বৃদ্ধি ও গঠন (ii) জীবদেহের রাসায়নিক পরিবর্তনে (iii) প্রাণীর গমন ও পেশী সঞ্চালনে (iv) প্রাণীর জীবনধারা ও বংশবৃদ্ধিতে (v) রোগ নিরাময়ে (vi) মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে ব্যবহৃত নানান সামগ্রী প্রস্তুতে জৈব যৌগ ভূমিকা অপরিসীম ।

জৈব যৌগ ও জৈব রসায়ন

বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়েঁ অনেকগুলি জৈব যৌগের বিশ্লেষণ করে দেখান যে, সব জৈব যৌগের মধ্যে কার্বন আছে । 1815 খ্রিস্টাব্দে বার্জেলিয়াস প্রাণ শক্তি তত্ত্বের [vital force theory] দ্বারা জৈব এবং অজৈব যৌগগুলি পার্থক্য করেন এবং তিনি বলেন জৈব যৌগগুলির উত্পন্নের জন্য উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীদেহে উপস্থিত প্রাণশক্তির প্রয়োজন । তাঁর মতে, এই শক্তি মানুষের করায়ত্ত নয়, তাই পরীক্ষাগারে অজৈব যৌগ থেকে জৈব যৌগগুলি প্রস্তুত করা সম্ভব নয় । তারপর এই প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে 1828 খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ভোলার [Fredrich Whohler] সর্বপ্রথম অজৈব যৌগ অ্যামোনিয়াম সায়ানেট [NH4CNO] -কে উত্তপ্ত করে জৈব যৌগ ইউরিয়া [CO(NH2)2] প্রস্তুত করে দেখান যে, পরীক্ষাগারে জৈব যৌগ তৈরি করা যায় । এই আবিষ্কারটি জৈব রসায়নে নবযুগের সূচনা করে ।

কয়েকটি বিশিষ্ট ধাতু-সংকরের নাম ও ব্যবহার

(১) পিতল - তামা এবং দস্তা, কাঁসা - তামা এবং টিন, ব্রোঞ্জ - তামা এবং টিন, অ্যালুমিনিয়াম-ব্রোঞ্জ - তামা এবং অ্যালুমিনিয়াম, জার্মান সিলভার - তামা, দস্তা এবং নিকেল, ডুরালুমিন - অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেলিয়াম - অ্যালুমিনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম, স্টেইনলেস স্টিল - লোহা এবং ক্রোমিয়াম -এর মিশ্রিত ধাতু সংকর ।