WB Class X

WBBSE class X study related contents

এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর মুল বৈশিষ্ট্য

এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর মুল বৈশিষ্ট্য :-   বিশাল আয়তন , অক্ষাংশের ব্যবধান , ভূপ্রকৃতি ও পর্বতের অবস্থান, বায়ু প্রবাহ , সমুদ্র স্রোত  প্রভৃতির জন্য এশিয়ার মতো জলবায়ুর এত বৈচিত্র্য পৃথিবীর অন্য কোন মহাদেশে দেখা যায় না। এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর মুল বৈশিষ্ট্য গুলি হলঃ

এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্যের কারণ

এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অংশে জলবায়ুর বৈচিত্র্যের কারণ :-      এশিয়ার মতো জলবায়ুর এর বৈচিত্র্য পৃথিবীর আর কোন মহাদেশে নেই।

এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর এই বৈচিত্র্যের মুলে যেসব কারন রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ

(১) অক্ষাংশের প্রভাবঃ দক্ষিণে ১০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ৭৮ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত এশিয়ার বিস্তৃত। অক্ষাংশের এত বিরাট ব্যবধানের জন্য সূর্য রশ্মির পতন কোনের পার্থক্যের কারনে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে উষ্ণতার যথেষ্ট পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এশিয়ার দক্ষিণ প্রান্ত গ্রীষ্মমণ্ডলে , মধ্য অংশ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে এবং উত্তরাংশ হিমমণ্ডলে অবস্থিত।

এশিয়ার অন্তর্বাহিনী নদীগুলির গতিপথ

এশিয়ার অন্তর্বাহিনী নদীগুলির গতিপথ :- যেসব নদীর প্রবাহ পথ কোন দেশ বামহাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ অর্থাৎ যেসব নদী কোন দেশ বা মহাদেশের স্থল ভাগের বাহিরে কোনও  সাগর বা জলভাগে না পড়ে সেই দেশ মহাদেশের স্থলভাগের মধ্যেই কোনও হ্রদ বা জলাশয়ে পতিত হয়, অথবা স্থলভাগেই বিলীন হয়ে যায়, সেইসব নদীকে অন্তর্বাহিনি নদী বলে। লক্ষ করলে দেখা যায় যে , এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি নদী মুল ভূভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ , এরা কোন কোন ক্ষেত্রে মধ্যভাগের কোনো কোনো হ্রদে গিয়ে পড়েছে , কখনও বা আবার মাঝপথেই শুকিয়ে গিয়েছে- তাই এদের অন্তর্বাহিনি নদী বলা হয়।

এশিয়ার পশ্চিম বাহিনী নদীগুলির গতিপথ

এশিয়ার পশ্চিম বাহিনী নদীগুলির গতিপথ:-     

ভারতের নর্মদা ও তাপ্তি হল এশিয়ার অন্যতম পশ্চিম বাহিনি নদী।

(১) নর্মদা নদী (দৈর্ঘ্য ১৩১০ কিলোমিটার)। নর্মদা নদী মহাকাল পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অমরকণ্টক (১০৫৭ মিটার) থেকে উৎপন্ন হয়ে মধ্যপ্রদেশ , মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্য দিয়ে গিয়ে বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের সংকীর্ণ গিরিখাত অতিক্রম করে গুজরাটের ব্রোচের কাছে কাম্বাত উপসাগরে পড়েছে।

এশিয়ার পূর্ববাহিনী নদীগুলির গতিপথ

এশিয়ার পূর্ববাহিনী নদীগুলির গতিপথ :- মধ্য এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে পূর্বদিকে বেশি বিস্তৃত বলে মধ্য এশিয়া থেকে উৎপন্ন হয়ে যেসব নদী পূর্বদিকে গিয়েছে , সেখানকার পর্বতের বাধার ফলে তারা অনেক সময় বহুদূর পর্যন্ত এঁকে বেঁকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সমভূমিতে পড়ে অল্প দূরত্ব পেরিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে বিভিন্ন সাগর , উপসাগর বা প্রনালিতে পড়েছে। এইসব নদীর মধ্যেঃ (১) ইয়াংসি কিয়াং, (২) হোয়াং হো, (৩) আমুর এবং (৪) সিকিয়াং প্রভৃতি নদী বিশেষ উল্লেখযোগ্য ।

এশিয়ার দক্ষিণ বাহিনী নদীগুলির গতিপথ

এশিয়ার দক্ষিণ বাহিনী নদীগুলির গতিপথ:-    সিন্ধু , গঙ্গা , ব্রহ্মপুত্র , ইরাবতী , সালুয়েন , টাইগ্রিস , ইউফ্রেটিস , মেকং ও মেনাম হল এশিয়া মহাদেশের উল্লেখযোগ্য দক্ষিণ বাহিনি নদী ।

নিচে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ বাহিনি নদীগুলোর গতিপথের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলঃ

(১) গঙ্গা (দৈর্ঘ্য ২৪০০ কিলোমিটার ) গঙ্গা হিমালয় পর্বত থেকে উৎপন্ন হওয়ার পর দক্ষিণ পূর্বে প্রবাহিত হয়ে মোহনার কাছে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একসঙ্গে বঙ্গোপ সাগরে পড়েছে। যমুনা, শোন , চম্বল , গন্ডক ঘর্ঘরা প্রভৃতি গঙ্গার উল্লেখযোগ্য উপনদী।