WB Class X

WBBSE class X study related contents

জোয়ার ভাটার ফলাফল ও প্রভাব

জোয়ার ভাটার ফলাফল [Impact of Tides]:- সমুদ্র উপকূলে ও উপকুলের কাছে নদনদীতে জোয়ার ভাটার প্রভাব বেশি । জোয়ার ভাটার নিম্নলিখিত ফলাফল গুলি :-

• জোয়ারভাটার সুফল:

১) জোয়ারের ফলে নদীর জল নির্মল থাকে  ।

২) জোয়ার ভাটার ফলে নদী থেকে আবর্জনা সমুদ্রে গিয়ে পড়ে । ফলে ভাটার টানে নদী আবর্জনা ও পলিমুক্ত হয়  ।

৩) জোয়ারের জলের টানে নদী-মোহনায় সঞ্চিত পলিমাটি সমুদ্রের দিকে চলে যায় ও নদী মোহনা পলিমুক্ত হয় এবং বদ্বীপ গঠনে বাধা পড়ে ।

বান ডাকা [Tidal Bores]

বান ডাকা [Tidal Bores]:- সাধারণত বর্ষাকালে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার ভরা কোটালের সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে জোয়ারের জল নদীর খাড়িপথ ও মোহনা দিয়ে নদী প্রবাহের বিপরীত দিকে অগ্রসর হয় । ঢেঊ, জলোচ্ছ্বাসসহ নদীর এই সগর্জন বিপরীত প্রবাহকে বান বা বান ডাকা বলে । পশ্চিমবঙ্গের হুগলি, চিনের ইয়াং-সি-কিয়াং, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীতে, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের টেমস প্রভৃতি নদী-মোহনায় বর্ষাকালে ভরা কোটালের মাত্রা অনেক সময় ৬-৯ মিটারের মতো উঁচু হয় । এই উঁচু জল যখন নদীপথে প্রবল বেগে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, তখন তাকে বান ডাকা বলে । এই সময় নদীতে স্নান অথবা

জোয়ারভাটার গতিবিধি

জোয়ারভাটার গতিবিধি [Timings of Tides]:- পৃথিবীর সর্বত্র দিনে একবার মুখ্য জোয়ার ও একবার গৌণ জোয়ার আসে । একটি মুখ্য জোয়ারের পর পরবর্তী মুখ্য জোয়ার ঠিক 24 ঘন্টা পরে আসে না, প্রায় 25 ঘন্টা (24 ঘন্টা 52 মিনিট) পরে আসে ।

ভরা জোয়ার ও মরা জোয়ার

ভরা জোয়ার [Spring Tide]:- পৃথিবীর সব জায়গায় সব দিন জোয়ারের পরিমাণ একই থাকে না । তিথি অনুসারে জোয়ারভাটা বাড়ে ও কমে । অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্রের মিলিত বলের প্রবল টানে যে তীব্র জোয়ার সৃষ্টি হয় তাকে ভরা জোয়ার বা তেজ কোটাল বা ভরা কোটাল বলে ।  অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চন্দ্র এবং পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে । অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে চন্দ্র ও সূর্য এবং পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে পৃথিবী অবস্থান করে । সেইজন্য চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয়; সূর্যও সেখানে আকর্ষণ করে জোয়া

মুখ্য ও গৌণ জোয়ার

মুখ্য জোয়ার [Primary Tide]:

(১) পৃথিবীর আবর্তন গতি এবং পৃথিবীকে চন্দ্রের পরিক্রমণের ফলে পৃথিবী ও চন্দ্রের অবস্থান বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয়, এর ফলে জোয়ারভাটারও তারতম্য হয় ।

জোয়ারভাটা ও জোয়ারভাটা সৃষ্টির কারণ

জোয়ারভাটা [Tides]:- মুখ্যত চন্দ্রের আকর্ষণী শক্তির প্রভাবে এবং অপেক্ষাকৃত কম মাত্রায় সূর্যের আকর্ষণী শক্তির প্রভাবে নিয়মিতভাবে দিনে দু’বার করে পর্যায়ক্রমে সমুদ্রের জল এক জায়গায় ফুলে ওঠে, আবার এক জায়গায় নেমে যায় । চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রের জলরাশির এই নিয়মিত ফুলে ওঠা বা জলস্ফীতিকে জোয়ার [High Tide] এবং সমুদ্রের জলরাশির এই নিয়মিত নেমে যাওয়া বা সমুদ্রজলের অবনমনকে ভাটা [Low Tide] বলে । সমুদ্রের জল ফুলে ওঠার ফলে সেই জল উপকূলের কাছাকাছি নদনদীতে ঢুকে পড়ে । সেইজন্য উপকূলের কাছাকাছি নদনদীতে জোয়ারভাটার খেলা দেখা যায় । স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা অগভীর সমুদ্রে জোয়ারভাটার সময় জলতলের পা