স্বামী বিবেকানন্দের জাপান ভ্রমণ

Submitted by administrator on Mon, 04/01/2013 - 07:19

জাপান ভ্রমণ:-

তাঁর শিকাগো যাবার পথে বিবেকানন্দ ১৮৯৩ সালে জাপান ভ্রমণ করেন । প্রথমে তিনি বন্দর নগরী নাগাসাকি পৌঁছেন এবং তারপর কোবে যাবার জন্য একটি স্টীমারে চড়েন । এখান থেকে তিনি স্থল পথে তিন বড় শহর ওসাকা, কিয়োটো এবং টোকিও ভ্রমণ করে ইয়োকোহামা যান । তিনি জাপানীদের "পৃথিবীর সবচেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জনগনের অন্যতম" বলে অভিহিত করেন এবং শুধুমাত্র তাদের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরের পরিচ্ছন্নতার দ্বারাই চমৎকৃত হননি বরং তাদের কর্মচাঞ্চল্য, মনোভাব ও ভঙ্গি দেখেও চমৎকৃত হন যাদের সকল কিছু্কেই তাঁর মনে হয়েছিল "চিত্রবৎ বা  ছবির মত" । এটি ছিল জাপানে দ্রুত সামরিক সংখ্যা/শক্তি বৃদ্ধির সময়কাল- চীন-জাপান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-জাপান যুদ্ধের পূর্বসূচক । এ সকল প্রস্ত্তুতি বিবেকানন্দের মনোযোগ এড়ায়নি, যিনি লিখেছিলেন-"জাপানীরা এখন মনে হয় বর্তমান সময়ের প্রয়োজনানুসারে নিজেদের সম্পূর্ণ জাগিয়ে তুলেছে । তারা এখন তাদের নিজেদের কর্মকর্তাদের আবিষ্কৃত ও অতুলনীয় বলে কথিত বন্দুক/অস্ত্রসমূহ দ্বারা সজ্জিত এক সম্পূর্ণ সংগঠিত সামরিক বাহিনী । তাছাড়া তারা তাদের নৌ-বাহিনাকে অবিরামভাবে বর্ধিত করছে ।" তাঁর পর্যবেক্ষণকৃত শিল্পে অগ্রগতি সম্পর্কে, "দিয়াশলাই কারখানাগুলো একেবারে দেখার মত, এবং তারা যা চায় তার সকল কিছুই তাদের নিজেদের দেশে তৈরী করতে প্রবণ ।" জাপানের দ্রুত অগ্রগতির বিপরীতে ভারতের পরিস্থিতি তুলনা করে তিনি তাগিদ দেন তাঁর দেশের মানুষকে- " কুসংস্কার এবং নিপীড়নের শতাব্দীর সন্তান-সন্ততিদের "- তাদের সংকীর্ণ গর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে এবং বিদেশের দিকে তাকাতে- “  শুধু আমি চাই যে আমাদের যুবকেরা প্রতি বছর জাপান এবং চীন ভ্রমণ করুক । বিশেষ করে জাপানীদের নিকট ভারত তারপরও এমন এক স্বপ্নরাজ্য যার সবকিছুই উচ্চস্তরের এবং ভাল । এবং তোমরা, তোমরা কি ?...  তোমারা সারা জীবন বাজে বকিতেছো, অনর্থক প্রলাপকারীরা, তোমরা কি ? এসো, এ সকল মানুষকে দেখ এবং যাও আর লজ্জায় তোমাদের মুখ ঢাক । জড়বুদ্ধিসম্পন্ন জাতি, তোমরা তোমাদের প্রাসাদ হারাবে যদি তোমরা বাইরে আসো! শত শত বছর ধরে তোমাদের মাথার উপর দানা বাঁধা কুসংস্কারের ক্রমবর্ধমান বোঝা নিয়ে বসে আছো, শত শত বছর ধরে এ খাবার সে খাবারের স্পর্শযোগ্যতা বা স্পর্শ-অযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করে তোমাদের সকল শক্তি ক্ষয় করছো, যুগ যুগ ধরে অবিরাম সামাজিক পীড়নের দ্বারা তোমাদের সকল মানবিকতা নিষ্পেষিত- তোমরা কি ?  আর তোমরা এখন কি করছো ?...  তোমারা হাতে বই নিয়ে সমুদ্রতীরে ভ্রমণ করছো - ইউরোপিয়ান মস্তিষ্ক-কর্মের অজীর্ণ পথভ্রষ্ট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পুনরাবৃত্তি করছো, আর ত্রিশ রুপীর কেরানীর চাকরির জন্য সমস্ত আত্মা অবনত, অথবা বড়জোর একজন উকিল হওয়া- নবীন ভারতের উচ্চাকাঙ্খার শিখর- আর প্রত্যেক ছাত্রের সাথে তার পায়ে পায়ে ঘুরে একদল ক্ষুদার্ত ছেলেমেয়ের দল রুটি চাচ্ছে !  তোমাদের, বইগুলোর, গাউনের, বিশ্ববিদ্যালয় ডিপ্লোমাগুলোর আর সব কিছুর ডোবার জন্য সমুদ্রে যথেষ্ট জল কি নেই ? ”

***

 

Comments

Related Items

National Youth Day - 12th January

দণ্ড কমণ্ডলু হাতে এক নবীন পরিব্রাজক চলেছেন ভারত পরিক্রমায় । ভারতের সর্বত্রই আজ সীমাহীন দারিদ্র, পরাধীনতার গাঢ় অন্ধকার, পরানুকরণ-মত্ততা, দাসসুলভ দুর্বলতা, অস্পৃশ্যতার রাহুগ্রাস । সন্ন্যাসীর অন্তরাত্মা কেঁদে উঠলো । কে এই সন্ন্যাসী, যিনি দরিদ্র মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করলেন ?

স্বামীজীর দ্বিতীয়বার পাশ্চাত্য ভ্রমণ

দ্বিতীয়বার পাশ্চাত্য ভ্রমণ:-

ভারতে প্রত্যাবর্তন এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা

ভারতে প্রত্যাবর্তন:-

কলম্বো থেকে আলমোড়া: