Book-page

হ্রদ অঞ্চলের শিল্পোন্নতির কারণ

হ্রদ অঞ্চলের শিল্পোন্নতির কারণ :-

(১) সুপিরিয়র হ্রদ অঞ্চলের মেসবি (বিশ্বের বৃহত্তম লৌহখনি), ভারমিলিয়ন, গোজিবিক, কুইনা, মিনোমিনি ও মারকোয়েট রেঞ্জ প্রভৃতি লৌহখনি নিয়ে গঠিত বিশ্বশ্রেষ্ঠ লৌহ খনি অঞ্চলের আকরিক লোহা,

(২) পিটসবার্গ, পেনসিলভানিয়া, পশ্চিম ভার্জিনিয়া এবং অ্যাপালেসিয়ান অঞ্চলের সুলভ কয়লা;

(৩) নায়াগ্রাসহ হ্রদ অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ সুলভ জলবিদ্যুৎ ;

(৪) হ্রদ অঞ্চলের সুলভ জল পরিবহন ;

(৫) হ্রদ অঞ্চলের জলসম্পদের প্রাচুর্য ;

(৬) রাসায়নিক কাঁচা মালের প্রাচুর্য ;

হ্রদ অঞ্চলে পশু পালন, পোলট্রি ও ডেয়ারি শিল্পের উন্নতির কারণ

হ্রদ অঞ্চলে পশু পালন, পোলট্রি ও ডেয়ারি শিল্পের উন্নতির কারণ :-

(১) হ্রদ অঞ্চলের দক্ষিণাংশের ভুট্টা বলয়ে উৎপন্ন ভুট্টা পুষ্টিকর পশু খাদ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয় । ফলে এই অঞ্চল গবাদি পশু ও শুয়োর প্রতিপালনে বিশ্বে অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে ।

(২) হ্রদ অঞ্চলের উত্তরাংশের তৃণভূমি প্রধানত মাংসের জন্য ভেড়া, ছাগল ও ষাঁড়  প্রতিপালন করা হয় । 

হ্রদ অঞ্চলের কৃষিতে উন্নতির কারণ

হ্রদ অঞ্চলের কৃষিতে উন্নতির কারণ :-  (১) তরঙ্গায়িত ও বিস্তীর্ণ সমতলভূমি, (২) নাতিশীতোষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, (৩) পরিমিত বৃষ্টিপাত ( ৫০ থেকে ৬০ সে.মি.), (৪) উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা এবং (৫) উন্নত যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থার জন্য হ্রদ অঞ্চলে কৃষির বিশেষত ভুট্টা চাষের উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটেছে । হ্রদ অঞ্চলের দক্ষিণাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভুট্টা উৎপাদক অঞ্চল । একে হ্রদ অঞ্চলের ভুট্টা বলয় বলে । এই ভুট্টা প্রধানত পশুখাদ্যের জন্য ব্যবহৃত হয় । হ্রদ অঞ্চলে উত্তরাংশের তৃণভূমিতে পশু খাদ্যের জন্য ‘হে’ এবং অন্যান্য ঘাষের চাষ করা হয় । হ্রদ অঞ্চলের অন্যান্য ফসল হল— গম, যব, রাই, ওট, সয়াবিন

পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য

(১) একমাত্র শিলিগুড়ি মহকুমা বাদে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার বাকি অংশ হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের অন্তর্গত ।

(২) বেশি উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ার ফলে দার্জিলিং জেলার পার্বত্য অংশে পশ্চিমবঙ্গের সমতলভূমির তুলনায় তাপমাত্রা অনেক কম । ফলে গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরা যখন প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস  করে, তখন দার্জিলিং পাহাড়ের লোকেরা শীতের হাত থেকে বাঁচতে গরম পোশাক পরে ।

পশ্চিমবঙ্গের ঋতুচক্র

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে মোটামুটি চারটি প্রধান ঋতুতে ভাগ করা যায় । যেমন— (১) শুষ্ক গ্রীষ্মকাল,  (২) আর্দ্র গ্রীষ্মকাল, (৩) শরৎকাল ও (৪) শীতকাল । এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বসন্তকাল ও হেমন্তকাল স্বল্পস্থায়ী । তাই পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর ক্ষেত্রে এদের বিশেষ কোন প্রভাব নেই । বছরের বিভিন্ন ঋতুতে পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য দেখা যায় ।

দক্ষিণবঙ্গ এবং সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য নদনদী

মাতলা, গোসাবা, বিদ্যাধরী, পিয়ালী, ইছামতী, কালিন্দী, রায়মঙ্গল, সপ্তমুখী, বড়তলা, জামিরা প্রভৃতি দক্ষিণবঙ্গ ও সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য নদনদী । প্রত্যেকটি নদীই দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে । ইছামতী, মাতলা, হাড়িয়াডাঙা, সপ্তমুখি, জামিরা প্রভৃতি নদীগুলো বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের জলে পুষ্ট, তাই এদের জল লবণাক্ত । জোয়ারের সময় এই নদীগুলোতে নৌকা চালানো যায় ।

***