Organic Compound

জৈব এবং অজৈব যৌগের মধ্যে তুলনা

প্রত্যেক জৈব যৌগের অণুতে কার্বন থাকবেই কিন্তু অজৈব যৌগের অণুতে কার্বন থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে । জৈব যৌগগুলি সমযোজ্যতা দ্বারা গঠিত কিন্তু অজৈব যৌগগুলি সাধারণত তড়িৎযোজী বন্ধনের দ্বারা আবদ্ধ । জৈব যৌগের বিক্রিয়া মন্থর হয় কিন্তু অজৈব যৌগের বিক্রিয়া দ্রুত হয় । সাধারণত জৈব যৌগের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক অপেক্ষাকৃত কম কিন্তু অজৈব যৌগের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক অনেক বেশি । জৈব যৌগগুলি দাহ্য প্রকৃতির হয় কিন্তু অজৈব যৌগগুলি সাধারণত দাহ্য নয় ।

জীবনক্রিয়ায় জৈব যৌগের ভুমিকা

প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহের বেশির ভাগ অংশ জৈব যৌগ দিয়ে গঠিত । তাই জীব জগতে জৈব যৌগের দান অতুলনীয় । জীবন ক্রিয়ার সঙ্গে জৈব যৌগ গভীর ভাবে জড়িত । জীবদেহের জীবনক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য জৈব যৌগের ভূমিকা অপরিসীম । জীবজগতে প্রত্যেক জৈবিক ক্রিয়ার কারণ হল জীবদেহে জৈব যৌগের ক্রিয়া । (i) দেহের পুষ্টি সাধন, বৃদ্ধি ও গঠন (ii) জীবদেহের রাসায়নিক পরিবর্তনে (iii) প্রাণীর গমন ও পেশী সঞ্চালনে (iv) প্রাণীর জীবনধারা ও বংশবৃদ্ধিতে (v) রোগ নিরাময়ে (vi) মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে ব্যবহৃত নানান সামগ্রী প্রস্তুতে জৈব যৌগ ভূমিকা অপরিসীম ।

জৈব যৌগ ও জৈব রসায়ন

বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়েঁ অনেকগুলি জৈব যৌগের বিশ্লেষণ করে দেখান যে, সব জৈব যৌগের মধ্যে কার্বন আছে । 1815 খ্রিস্টাব্দে বার্জেলিয়াস প্রাণ শক্তি তত্ত্বের [vital force theory] দ্বারা জৈব এবং অজৈব যৌগগুলি পার্থক্য করেন এবং তিনি বলেন জৈব যৌগগুলির উত্পন্নের জন্য উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীদেহে উপস্থিত প্রাণশক্তির প্রয়োজন । তাঁর মতে, এই শক্তি মানুষের করায়ত্ত নয়, তাই পরীক্ষাগারে অজৈব যৌগ থেকে জৈব যৌগগুলি প্রস্তুত করা সম্ভব নয় । তারপর এই প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে 1828 খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ভোলার [Fredrich Whohler] সর্বপ্রথম অজৈব যৌগ অ্যামোনিয়াম সায়ানেট [NH4CNO] -কে উত্তপ্ত করে জৈব যৌগ ইউরিয়া [CO(NH2)2] প্রস্তুত করে দেখান যে, পরীক্ষাগারে জৈব যৌগ তৈরি করা যায় । এই আবিষ্কারটি জৈব রসায়নে নবযুগের সূচনা করে ।