শ্রীরামকৃষ্ণ

শ্রীরামকৃষ্ণ [ShriRamakrishna Paramhansadeva]:- উনবিংশ শতাব্দীর ধর্ম ও সংস্কৃতির আকাশে এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হলেন শ্রীরামকৃষ্ণ (১৮৩৬-৮৬ খ্রি.) । পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমায় অবস্থিত কামার পুকুর গ্রামে ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই ফেব্রুয়ারী এক দরিদ্র ধর্মনিষ্ঠ রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্ম হয় । তিনি পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং মা চন্দ্রমণি দেবীর চতুর্থ ও শেষ সন্তান । পাশ্চাত্য ভাব সংঘাতে হিন্দুধর্ম যখন কোণঠাসা, বিভিন্ন ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষ যখন নিজ নিজ ধর্মের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় তত্পর, তখনই সর্ব-ধর্ম সমন্বয়ের বাণী নিয়ে বাংলায় আবির্ভুত হলেন ভারত আত্মার বাণীমূর্তি শ্রীরামকৃষ্ণ । ব্যক্তিগত জীবনে হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান প্রভৃতি নানা ধর্মের সাধনা করে তিনি এই সত্যে উপনীত হয়েছিলেন যে, সব ধর্মই এক । তাঁর সর্ব-ধর্ম সমন্বয়ের বাণী ‘যত মত তত পথ’ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র  করে সে যুগে তো বটেই আজও ভারত তথা বিশ্ববাসীকে নতুন পথের সন্ধান দিয়ে চলেছে । তাই শ্রীরামকৃষ্ণের আবির্ভাবকাল উনবিংশ শতাব্দী সমন্বয়ের যুগ [Age of synthesis] রূপে চিহ্নিত । ভারতীয় সংকৃতির যে মর্মবাণী—  বিভেদ নয়, ঐক্য, প্রতিযোগিতা নয়—  শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, অসহিষ্ণুতা নয়— গ্রহণ-ক্ষমতা, শ্রীরামকৃষ্ণ হলেন সেই শাশ্বত বাণীর বার্তাবহ ।  সাধনার গভীরে মগ্ন থেকে তিনি জীবের মধ্যে শিবের প্রত্যক্ষ রূপটিকে উপলব্ধি করেছিলেন । তাই তাঁর কথা, জীবে দয়া নয়, শিবজ্ঞানে জীবসেবা । শ্রীরামকৃষ্ণের যোগ্য শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর গুরুর সেই ‘শিব জ্ঞানে জীবসেবা’ র  আদর্শকে রূপ দিতে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ১ মে ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ এবং ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে ৯ ই ডিসেম্বর বেলুড়ে ‘শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ’ প্রতিষ্ঠা করেন । আজ ভারত ও ভারতের বাইরে শতাধিক কেন্দ্রে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ নির্দেশিত পথে সন্ন্যাসী ও গৃহী ভক্তগণ সমাজসেবা,শিক্ষাবিস্তার ও নানা জনকল্যাণমূলক কাজ করে চলেছেন ।  ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ১৬ ই অগস্ট  শ্রীরামকৃষ্ণ পরলোক গমন করেন ।               

***