তৃতীয় ঈঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ ও মারাঠা শক্তির পতন

তৃতীয় ঈঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ ও মারাঠা শক্তির পতন [Third Anglo-Maratha War and Downfall of the Maratha Power] : দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হওয়ার পরও পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাও ইংরেজ বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় গভর্নর লর্ড হেস্টিংস পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও-কে এক নতুন অপমানজনক সন্ধি স্বাক্ষর করার জন্য বাধ্য করলে তিনি বিদ্রোহী হন । এই সময় লর্ড হেস্টিংস উত্তর ভারতে পিন্ডারী দমনে ব্যস্ত থাকলে সেই সুযোগে পুনার পেশোয়া বাহিনী ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে কির্কির ব্রিটিশ সেনানিবাস আক্রমণ করে । ফলে তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ [Third Anglo-Maratha War] শুরু হয় । ব্রিটিশ সেনা মারাঠা বাহিনীকে সহজেই পরাজিত করে পুনা অধিকার করে নেয় । পেশোয়ার দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে সিন্ধিয়া, ভোঁসলে এবং হোলকার পেশোয়ারের সঙ্গে যোগ দেয় । ইংরেজ বাহিনী নাগপুরের অনতিদূরে সিতাবলদীর যুদ্ধে ভোঁসলে এবং মাহিদপুরের যুদ্ধে হোলকারকে পরাজিত করেন । এর পরেও পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাও ইংরেজদের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযান চালালে কোরেগাঁও এবং অস্টির যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়ে ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন । এই সঙ্গে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের অবসান ঘটে । 

এই যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে

(১) লর্ড হেস্টিংস পেশোয়া পদের বিলোপ সাধন করেন ।

(২) দ্বিতীয় বাজিরাওকে বার্ষিক আট লাখ টাকা বৃত্তি দিয়ে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের নিকটবর্তী বিঠুরে নির্বাসিতের জীবনযাপনে বাধ্য করা হয় ।

(৩) ইংরেজদের তত্বাবধানে শিবাজীর বংশধর প্রতাপসিংহ সাতারার সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত হন ।

(৪) সিন্ধিয়া, ভোঁসলে, হোলকার নিজ নিজ অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ইংরেজদের সঙ্গে অধীনতামূলক মিত্রতায় আবদ্ধ হন ।

(৫) মারাঠা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়,

(৬) পেশোয়ার রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয় ।

***