অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[প্রথম অধ্যায়- ১ম: অংশ]

প্রশ্ন:- (১)(ক) ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার বর্ণনা করো । 

উত্তর:- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশির যুদ্ধে [Battle of Plassey] এবং ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক বলে বলীয়ান হয়ে ওঠে । বক্সারের যুদ্ধে অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ্-দৌলা পরাজিত হলে লর্ড ক্লাইভ তাঁর সঙ্গে এলাহাবাদের সন্ধি করেন । এই সন্ধির দ্বারা লর্ড ক্লাইভ অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ প্রদেশ দুটি লাভ করে ও বিনা শুল্কে অযোধ্যায় বাণিজ্য করার অধিকার পায় । এরপর ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে দ্বিতীয় সন্ধি চুক্তি করেন । এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লর্ড ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ প্রদেশদুটি মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমকে উপহার দেয় ও বিনিময়ে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ভার অর্পণ করে । এই সময় কোম্পানি ইচ্ছা করলেই বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, অযোধ্যা ও দিল্লীর সিংহাসন জয় করতে পারত, কারণ তখন অর্থাৎ ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রশাসনিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক- সমস্ত দিক দিয়েই বাংলা ইংরেজদের করতলগত হয়েছে ।  বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত রাজ্য অযোধ্যা ইংরেজদের অনুগত ‘মিত্র-রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে এবং ওই একই যুদ্ধে পরাজিত দিল্লীর মোগল সম্রাট কোম্পানির বৃত্তিভোগীতে পরিণত হয়েছেন । কিন্তু ক্লাইভের বিচক্ষণতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই সময়ে ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের পথে না গিয়ে দিল্লীর পরাজিত মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে সংহত ও সুদৃঢ় করে তোলে । আর মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের অনুমোদন সাপেক্ষে এদেশে তাদের অধিকার আইনগত বৈধতা পায় ।

 

প্রশ্ন:- (১)(খ) লর্ড ওয়েলেসলির যুদ্ধবিস্তারের শেষে (১৭৯৮-১৮০৫ খ্রি.) ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার বর্ণনা করো ।

উত্তর:- লর্ড ওয়েলেসলির রাজত্বকালে ইংরেজ কোম্পানি সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে দাক্ষিণাত্যের মহীশূর রাজ্য জয় করে । এছাড়া এই সময়কালে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মাধ্যমে একে একে হায়দ্রাবাদের নিজাম রাজ্য, অযোধ্যা, সুরাট, পুণা, সিন্ধিয়া, ভোঁসলে, হোলকার রাজ্য এবং কূটনীতি ও ছলনার মাধ্যমে তাঞ্জোর, সুরাট ও কর্ণাটক রাজ্য কোম্পানির হস্তগত হয় ।

 

প্রশ্ন:- (১)(গ) লর্ড ডালহৌসির যুদ্ধ বিস্তারের পর (১৮৪৮-১৮৫৬ খ্রিঃ) ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার বর্ণনা করো ।

উত্তর:- লর্ড ডালহৌসির শাসনকালে ইংরেজ কোম্পানি সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে প্রোম ও পেগুসহ সমগ্র দক্ষিণ বার্মা ও পাঞ্জাব রাজ্য;  স্বত্ববিলোপ নীতিকে কঠোরভাবে কার্যকর করে সাতারা, জয়েৎপুর, স্বম্বলপুর, বাগৎ, ভগৎ, উদয়পুর, করৌলি, ঝাঁসি, নাগপুর, কর্ণাটক, ভোঁসলে ও তাঞ্জোর রাজ্য, কুশাসনের অজুহাতে অযোধ্যা রাজ্য এবং অন্যান্য অজুহাতে সিকিমের একাংশ ও নিজাম রাজ্যের বেরার অঞ্চল দখল করে নেয়।

 

প্রশ্ন:- (২)(ক) শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির গুরুত্ব বর্ণনা করুন ।

উত্তর:- ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে টিপু সুলতান ও ইংরেজ কোম্পানির মধ্যে এই সন্ধি স্বাক্ষারির হয় । শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির শর্ত অনুসারে টিপু তাঁর রাজ্যের অর্ধেক অংশ ইংরেজ, নিজাম ও মারাঠাদের ছেড়ে দিতে হয়, যার মধ্যে ডিন্ডিগুল, বরমহাল, কুর্গ ও মালাবার অঞ্চল কোম্পানির ভাগে পড়ে । এই সন্ধির ফলে টিপুর রাজ্যের অর্ধেক অংশ তাঁর হস্তচ্যুত হয় এবং দক্ষিণ ভারতে ইংরেজদের রাজ্য, শক্তি ও প্রভাব যথেষ্ট পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির শর্ত অনুসারে:

(১) যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ টিপু সুলতানকে ৩৩০ লক্ষ টাকা ইংরেজদের দিতে বাধ্য হন;

(২) তাঁর রাজ্যের বেশ কিছুটা অংশ ইংরেজ, মারাঠা ও নিজাম লাভ করে ।

(৩) সন্ধির জামিনস্বরূপ টিপু তাঁর দুই কিশোর পুত্রকে ইংরেজদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন।

শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির ফলে:

(১) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দাক্ষিণাত্যের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয় ।

(২) মহীশূর রাজ্যের অস্তিত্ব বজায় থাকলেও তার পতনের সম্ভাবনা একরকম অনিবার্য হয়ে ওঠে।

 

প্রশ্ন:-(২)(খ) অমৃতসরের সন্ধির গুরুত্ব বর্ণনা করুন ।

উত্তর:- পাঞ্জাবের বিবাদমান ছোটো মিসল গুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে পাঞ্জাবে এক শক্তিশালী শিখ রাজ্য গড়ে তোলাই ছিল রঞ্জিত সিংহের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য । এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তিনি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে অমৃতসর দখল করে শতদ্রু নদীর পূর্ব তীরের শিখ রাজ্যগুলি অধিকার করতে উদ্দ্যোগী হন । এতে ওই সমস্ত শিখ রাজ্যের নায়ক গণ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ইংরেজদের শরনাপন্ন হন । ইংরেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড মিন্টো রঞ্জিত সিংহের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য চার্লস মেটাকাফকে তাঁর দরবারে পাঠান । ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের মহারাজা রণজিৎ সিংহ এবং ইংরেজদের পক্ষে গভর্নর-জেনারেল লর্ড মিন্টোর প্রতিনিধি হিসাবে চার্লস মেটকাফ -এর মধ্যে অমৃতসরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় । অমৃতসরের সন্ধির শর্ত অনুসারে ঠিক হয় যে, শতদ্রু নদীর পূর্বদিকে রণজিৎ সিংহ আর রাজ্যবিস্তার করতে পারবেন না । (অর্থাৎ তাঁকে ‘পশ্চিম পাঞ্জাবের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই রাজ্যবিস্তার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে’) । অমৃতসরের সন্ধির মাধ্যমে ইংরেজরা শতদ্রু নদীর পূর্বতীরে রণজিৎ সিংহের রাজ্যবিস্তার সম্পূর্ণভাবে রোধ করে ছিল। এই সন্ধির ফলে রণজিৎ সিংহের মর্যাদাহানি হয় এবং ব্রিটিশ পক্ষের রাজ্য ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়। অমৃতসরের চুক্তির ফলে রণজিৎ সিংহের পক্ষে শতদ্রু নদীর পূর্বতীরে রাজ্য বিস্তারের আর কোনো সুযোগ রইল না। যাই হোক, অমৃতসরের সন্ধির পরবর্তী সময়ে তিনি মুলতান, ঝঙ্গ, কাশ্মীর, ডেরা ইস্‌মাইল খাঁ, ডেরা গাজি খাঁ ও পেশোয়ার  অধিকার করেন। যার ফলে তাঁর সাম্রাজ্য লাহোর থেকে সিন্ধু পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

 

প্রশ্ন:-(২)(গ) সগৌলির সন্ধির গুরুত্ব বর্ণনা করুন ।

উত্তর:- ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজা ও ইংরেজ কোম্পানির মধ্যে এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয় । উত্তরভারতের গোর্খারা ব্রিটিশ শাসককে উদ্বিগ্ন করে রেখেছিল । নেপাল ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় উভয়ের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ লেগে থাকত । ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হেস্টিংস গোর্খাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন । এই যুদ্ধ ১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত দুই বছর স্থয়ী হয়েছিল । অক্টারলোনির নেতৃত্বে ইংরেজ সেনাবাহিনী গোর্খাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গোর্খাদের পরাজিত করেন । গোর্খা সেনাপতি অমর বাহাদুর ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ও ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে এই সন্ধি স্বাক্ষর করেন । সগৌলির সন্ধির শর্ত অনুসারে ইংরেজ কোম্পানি সিমলা, মুসৌরি, আলমোড়া, নৈনিতাল, রানিখেত, কৌসানি প্রভৃতি রমণীর পার্বত্য শৈলাবাস অঞ্চল লাভ করে এবং নেপালের রাজধানী কাটমান্ডুতে একজন ইংরেজ রেসিডেন্ট রাখার ব্যবস্থা করা হয় । অর্থাৎ এই সন্ধির ফলে ব্রিটিশ পক্ষের রাজ্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

 

প্রশ্ন:-(৩) ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ নীতি কে প্রবর্তন করেন ? এর প্রধান শর্তগুলি কি ছিল ? কোন দেশীয় রাজ্য সর্বপ্রথম এবং কারা  কারা এটি গ্রহণ করেছিল ?

উত্তরঃ-  গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন করেন।

 

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির শর্ত : ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তারের জন্য লর্ড ওয়েলেসলি যে সকল নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি (Subsidiary Alliance)। কোনো দেশীয় রাজা এই নীতি গ্রহণ করলে তাঁকে কতকগুলি শর্ত পালন করতে হত, যেমনঃ

১)  অধীনতামূলক মিত্রতায় আবদ্ধ দেশীয় রাজাগুলিকে কোম্পানির বশ্যতা স্বীকার করতে হত।

২)  সংশ্লিষ্ট দেশীয় রাজ্যগুলিতে একদল ইংরেজ সৈন্য এবং একজন ইংরেজ রেসিডেন্ট রাখতে হত ।

৩)  সৈন্য বাহিনীর ব্যায়নির্বাহের জন্য মিত্রতাবদ্ধ রাজ্যকে নগদ টাকা বা রাজ্যের একাংশ ছেড়ে দিতে হত।

৪)  কোম্পানির বিনা অনুমতিতে অপর কোনো শক্তির সঙ্গে মিত্রতা বা যুদ্ধবিগ্রহ করা যেত না। অর্থাৎ মিত্র রাজ্যগুলির বৈদেশিক নীতি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নির্ধারণ করত।

৫)  চুক্তিবদ্ধ রাজ্যে ইংরেজ ছাড়া অন্যান্য সমস্ত ইউরোপীয়কে তাড়িয়ে দিতে হত।

৬)  এই সব বশ্যতার বিনিময়ে কোম্পানি সেই রাজ্যকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, বৈদেশিক আক্রমণ এবং অন্যান্য বিপদ থেকে রক্ষা করত।

 

ওয়েলেসলির অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি সর্ব প্রথম ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে গ্রহণ করেন হায়দ্রাবাদের নিজাম  । এরপর অযোধ্যা, তাঞ্জোর, সুরাট, পুণা প্রভৃতি রাজ্যগুলি এই নীতিতে আবদ্ধ হয়ে ইংরেজদের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয়। পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে বেসিনের সন্ধির মাধ্যমে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন । টিপু সুলতানের পতনের পর মহীশূরের পূর্বতন হিন্দু রাজবংশও কোম্পানির বশ্যতা স্বীকার করে নেয় । পরবর্তী সময়ে সিন্ধিয়া,ভোঁসলে ও হোলকার অধীনতামূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ।

- এই প্রসঙ্গে বলা যায় যে, অধীনতামূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দেশীয় রাজারা চিরদিনের মতো নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দেন। 

 

প্রশ্ন:- (৪) ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ কে প্রবর্তন করেন ? এই নীতির মূলকথা কী ছিল ? এই নীতি প্রয়োগ করে সর্বপ্রথম এবং কোন কোন দেশীয় রাজ্যকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ?

উত্তর:- লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন।

 

স্বত্ববিলোপ নীতির মূলকথা ছিল এই যে, ইংরেজদের আশ্রিত কোনো রাজ্যের উত্তরাধিকারী না থাকলে সেই রাজ্য ব্রিটিশ  সাম্রাজ্যভুক্ত করা হবে এবং দত্তক পুত্রের উত্তরাধিকার স্বীকার করা হবে না । ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করে রাজ্য বিস্তারে উদ্যোগী হন । দত্তক প্রথা প্রয়োগ করার ব্যাপারে, তিনি দেশীয় রাজ্যগুলিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেন, যথা- (১) কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য;   (২) কোম্পানির অধীন করদ রাজ্য এবং   (৩) স্বাধীন দেশীয় রাজ্য। 

  লর্ড ডালহৌসি এক নির্দেশনামা ঘোষণা করে প্রথম শ্রেণির দেশীয় রাজ্যগুলিতে দত্তক-প্রথা নিষিদ্ধ করেন; দ্বিতীয় শ্রেণির রাজ্যে কোম্পানির অনুমতি ছাড়া দত্তক গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করেন এবং স্বাধীন দেশীয় রাজ্যগুলিতে দত্তক প্রথা বহাল রাখেন । ডালহৌসির এই নির্দেশনামা স্বত্ববিলোপ নীতি (Doctrine of lapse)  নামে খ্যাত।

 

স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে

(১)  ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম সাতারা নামক দেশীয় রাজ্যকে ব্রিটিস সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়  ।

(২) এর পর ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসির যুক্তি ছিল এই যে, নাগপুর রাজ্যটি ইংরেজরাই সৃষ্টি করে ছিল ।

(৩) ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর মৃত্যু হলে ডালহৌসি তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই এই রাজ্যটিকে দখল করা হয় ।

(৪) পরবর্তীকালে ভগৎপুর, করৌলি, সম্বলপুর, উদয়পুর, জৈৎপুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।

 

প্রশ্ন:-(৫) কোন যুদ্ধে টিপু সুলতানের মৃত্যু হয় ? শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির প্রধান শর্ত দুটি কী ছিল ? দক্ষিণ ভারতে ইংরেজদের প্রাধান্য বিস্তারে টিপু সুলতানের ভূমিকা লেখো ।

উত্তরঃ- চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে টিপু সুলতানের মৃত্যু হয়।

 

শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির প্রধান দুটি শর্ত ছিলঃ

(১) যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসাবে টিপু ইংরেজদের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দেবেন।

(২) ইংরেজ, মারাঠা ও নিজামকে টিপুর নিজের রাজ্যের অর্ধাংশ ছেড়ে দিতে হবে।

 

দক্ষিণ ভারতে ইংরেজদের প্রাধান্য বিস্তারে টিপু সুলতানের ভূমিকাঃ

অষ্টাদশ শতকের প্রথমভাগে দক্ষিণ ভারতের পারস্পরিক বিবাদে লিপ্ত দেশীয় রাজ্যগুলি ব্রিটিশ বিরোধী শক্তিজোট গ্রহণে ব্যর্থ হলে সেই পরিস্থিতিকে মূলধন করে ব্রিটশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি প্রাধান্য বিস্তার করতে থাকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি হিসাবে যে-সমস্ত দেশীয় রাজা আত্মপ্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে মহীশূরের টিপু সুলতানের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

****