অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[দশম অধ্যায়- ২য় অংশ]

প্রশ্ন:- (৮) ঠান্ডা লড়াই কথাটি সর্বপ্রথম কে জনপ্রিয় করে তোলেন ? কোন দুটি দেশ ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রধান দুই প্রতিপক্ষ ছিলেন ?

উত্তর:- মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ঠান্ডা লড়াই কথাটিকে সর্বপ্রথম জনপ্রিয় কারে তোলেন । ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রধান দুই প্রতিপক্ষ ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েট ইউনিয়ন ।

 

প্রশ্ন:- (৯) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া-আফ্রিকার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাফল্যের কারণগুলি কী ? এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চিন দেশে কোন নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় ?  চিনে এই আন্দোলনে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ?

উত্তর:- দীর্ঘকাল ধরে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটেন, ফ্রান্স, পোর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস্‌ প্রভৃতি ইউরোপীয় দেশ গুলি ঔপনিবেশিক শাসন চালিয়ে আসছিল । কিন্তু নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সাফল্য লাভ করে, যেমন:-

১) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলশ্রুতি:- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন, ফ্রান্স, পোর্তুগাল প্রভৃতি ঔপনিবেশিকতাবাদী দেশগুলির ব্যপক লোকক্ষয়, আর্থিক মন্দা ও সামরিক শক্তি হ্রাস ছিল এশিয়া ও আফ্রিকায় ঔপনিবেশিকতার পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ।

২) ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলন:- রুশ বিপ্লবের সাফল্যের ফলশ্রুতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন পরাধীন দেশে উপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলন ছিল এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ঔপনিবেশিকতার পতনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ ।

৩) আটলান্টিক চার্টারের প্রভাব:- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্বাক্ষরিত আটলান্টিক চার্টারে বিভিন্ন উপনিবেশের জনগণকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পরাধীন জাতিগুলির ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দাবিকে জোরালো সমর্থন জানাতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সেই ‘প্রবল আর্থিক মন্দার যুগে’ মার্কিন সাহায্যের ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল ইউরোপীয় দেশগুলি (যেমন, ব্রিটেন,ফ্রান্স প্রভৃতি দেশ) মার্কিন ইচ্ছার কাছে নতিস্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না । এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ঔপনিবেশিকতার পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ।

 

জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চিন দেশে কমিউনিস্ট শাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু হয় । চিনের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাও সে তুং

 

প্রশ্ন:-  (১০)  কোন দুটি এশীয় দেশকে মুক্তি আন্দোলনের সময় বিভক্ত করা হয় ? হো-চি-মিন কে ছিলেন ?

উত্তর:-  মুক্তি আন্দোলনের সময় এশীয় দেশের মধ্যে ১) ভারতবর্ষ এবং ২) ভিয়েতনামকে  বিভক্ত করা হয় ।

হো-চি-মিন ছিলেন ভিয়েতনাম মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান নেতা এবং পরবর্তীকালে উত্তর ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন । 

 

প্রশ্ন:-  (১১)  বান্দুং সন্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয় ? এই সন্মেলনের গুরুত্ব নির্ণয় করো । বান্দুং সম্মেলনের নেতৃত্বদানকারী দেশের নাম লেখ ।

উত্তর:- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরে ‘বান্দুং সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয় ।

বান্দুং সম্মেলনের গুরুত্ব :

১) বান্দুং সম্মেলন থেকেই জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ।

২) এই সম্মেলনে (ক) বিভিন্ন দেশে ঔপনিবেশিক শাসন ও বর্ণ-বৈষম্য নীতির অবসান, (খ) ঠান্ডা লড়াই জনিত উত্তেজনা প্রশমন,  (গ) নয়া উপনিবেশবাদ ও বর্ণ বৈষম্যবাদের বিরোধিতা, (ঘ) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা,  (ঙ) বিশ্বরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।

 

বান্দুং সম্মেলনের নেতৃত্বদানকারী দেশগুলির নাম হল ভারত, চিন,  মিশর, যুগোশ্লাভিয়া, ইন্দোনেশিয়া

 

প্রশ্ন:- (১২) জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? এই নীতির প্রধান তত্ত্ব উল্লেখ করো । মার্শাল টিটো কে ছিলেন ?

উত্তর:- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু।

জোট  নিরপেক্ষ নীতির প্রধান তত্ত্ব হল পৃথিবীর সমস্ত শক্তিজোটের সঙ্গে ‘সম-বন্ধুত্ব ও সম-দুরত্বের নীতি’ব্জায় রাখা ।

মার্শাল টিটো ছিলেন যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের একজন উল্লেখযোগ্য নেতা ।

****