অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[দশম অধ্যায়- ১ম: অংশ]

প্রশ্ন:- (১) আটলান্টিক চার্টার (সনদ) কবে , কোথায় এবং কাদের মধ্যে  স্বাক্ষরিত হয় ?  সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার সদস্য কারা এবং এই সভার উদ্দেশ্য কী ? নিরাপত্তা পরিষদের কার্যাবলী কী ?

উত্তর:-  ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৯ই আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে প্রিন্স অফ ওয়েলস নামে একটি যুদ্ধজাহাজে পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি আটদফা সুত্র সম্বলিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন । এই চুক্তিটি আটলান্টিক সনদ (Atlantic charter) নামে পরিচিত ।

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সমস্ত সদস্য দেশ ‘সাধারণ সভার’ সদস্য ।

নিরাপত্তা পরিষদের কাজ:

১) নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কাজ হল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা,

২) পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা পরিষদ যে-কোনো বিষয়ে তদন্ত, সালিশি বিচার ও শাস্তিদান করতে পারে।

৩) শাস্তি হিসেবে অভিযুক্ত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে ।

 

প্রশ্ন:- (২) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে পার্থক্যগুলি উল্লেখ করো । আন্তর্জাতিক আদালত ক’জন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত ?

উত্তর:- জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্থা দুটির মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও বেশ কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যেমন-

১) জাতিপুঞ্জের সমস্ত সদস্য-দেশ সাধারণ সভার সদস্য হওয়ার সাধারণ সভার সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি, পক্ষান্তরে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা অনেক কম ।

২) সাধারণ সভা আলোচনামূলক সভা, কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদ হল বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান সংগঠন ।

 

 আন্তর্জাতিক আদালত ১৫ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত ।

 

প্রশ্ন:- (৩) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (U.N.O) প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আলোচনা করো । জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থাগুলির নাম করো । জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব কে ছিলেন ?

উত্তর:- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার পর ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা হয় । ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিগণ লন্ডন ঘোষণা পত্রের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করেন । এই বছর অর্থাৎ ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৯ই আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে প্রিন্স অফ ওয়েলস নামে একটি যুদ্ধজাহাজে পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি আটদফা সুত্র সম্বলিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন । এই চুক্তিটি আটলান্টিক সনদ (Atlantic charter) নামে পরিচিত । এই সনদে যে আটটি নীতির কথা বলা হয়েছিল তার মধ্যে ভবিষ্যৎ জাতিপুঞ্জের বীজ সুপ্ত ছিল । পরবর্তী সময়ে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ওয়াশিংটন সম্মেলনে ২৬টি দেশের প্রতিনিধিবর্গ আটলান্টিক সনদের মূল নীতিগুলি মেনে নিয়ে ‘সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ঘোষণাপত্র‘  নামক এক দলিলে স্বাক্ষর করেন । ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে ডাম্বারটন ওকস সম্মেলনে এই ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয় । অবশেষে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে বিশ্বের ৫০টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিবর্গ মিলিত হয়ে জাতিপুঞ্জের সনদে প্রথম স্বাক্ষর করেন, এই জন্যই ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে অক্টোবর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে পালন করা হয় ।

 

জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থাগুলি হল:-

১) সাধারণ সভা,

২) নিরাপত্তা পরিষদ,

৩) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ,

৪) অছি পরিষদ,

৫) আন্তর্জাতিক বিচারালয়

৬) সচিবালয়।

জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব ছিলেন ট্রিগভি লি

 

****