বায়ুমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলের গঠন

বায়ুমণ্ডলের সংজ্ঞা [Defination of Atmosphere]:- ভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বে যে অদৃশ্য গ্যাসের আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল [Atmosphere] বলে । বায়ুমণ্ডলকে চোখে দেখা যায় না, শুধু এর অস্তিত্ব আমরা অনুভব করতে পারি । পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে এই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে আবর্তিত হয় ।

বায়ুমণ্ডলের গঠন [Composition  Atmosphere] :- বায়ুমণ্ডল প্রধানত (১) বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, (২) জলীয় বাষ্প এবং (৩) জৈব ও অজৈব কণিকা নিয়ে গঠিত ।

(১) বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ:- বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে নাইট্রোজেনের [Nitrogeb] পরিমাণ সব চেয়ে (৭৮%) এবং তার পরেই অক্সিজেনের [Oxygen] স্থান (২০.৯%) । এরা মিলিত ভাবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৯% ভাগ অধিকার করে আছে । এরা ছাড়া বায়ুমণ্ডলের বাকি ১.১ ভাগ অংশে কার্বন ডাই-অক্সাইড [Carbon dioxide], আর্গন [Argon], নিওন [Neon], হিলিয়াম [Helium], ক্রিপ্টন [Krypton], জেনন [Xenon], হাইড্রোজেন [Hydrogen], মিথেন [Methane], নাইট্রাস অক্সাইড [Nitrous oxide], ওজোন [Ozone] প্রভৃতি নানা গ্যাস রয়েছে ।

(২) জলীয় বাষ্প [Water vapor]:- বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প সৌরতাপ শোষণ করে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণে বাধা দেয় । মূলত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির জন্যই পৃথিবীতে মেঘ, বৃষ্টি, তুষারপাত, কুয়াশা প্রভৃতির সৃষ্টি হয় ।

(৩) জৈব ও অজৈব কণিকা [Organic and Inorganic particles]: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের জৈব ও অজৈব কণিকা গুলির মধ্যে প্রধান হল-(i) অতি ক্ষুদ্র খনিজ লবণ, (ii) সমুদ্রতীরের ছোটো বালুকণা এবং (iii) কয়লা গুঁড়ো বা ধোঁয়া ।

গঠন বিন্যাসের তারতম্য অনুসারে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:- (১) হোমোস্ফিয়ার  এবং  (২) হেটেরোস্ফিয়ার  ।

(১) হোমোস্ফিয়ার [Homosphere]:- ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানের রাসয়নিক গঠন, বিশেষত বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় একই রকম থাকে । এই জন্য বায়ুমণ্ডলের এই স্তরকে হোমোস্ফিয়ার বলা হয় । হোমোস্ফিয়ার প্রধানত:- (ক) বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ [নাইট্রোজেন (৭৮%), অক্সিজেন (২০.৯%) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, আর্গন, নিওন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, হাইড্রোজেন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজন প্রভৃতি গ্যাসের মিশ্রণ (১.১ %) ],  (খ) জলীয় বাষ্প এবং  (গ) জৈব ও অজৈব কণিকা যেমন- অতি ক্ষুদ্র খনিজ, লবণ, সমুদ্রতীরের বালুকণা, কয়লার গুঁড়ো বা ধোঁয়া প্রভৃতি দিয়ে গঠিত । ভু-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত হোমোস্ফিয়ারের প্রথম স্তরকে ট্রোপোস্ফিয়ার বলে । ট্রোপোস্ফিয়ারের উপরে ১৮ কিমি থেকে ৮০ কিমি পর্যন্ত হোমোস্ফিয়ারের দ্বিতীয় স্তরকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলে ।   

(২) হেটেরোস্ফিয়ার [Heterosphere]:-  বায়ূমণ্ডলের হোমোস্ফিয়ার স্তরের ওপরের অংশে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত এবং বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো একই রকম থাকে না বলে ভূপৃষ্ঠের ওপরে ৮০ কিলোমিটার থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে হেটেরোস্ফিয়ার বলা হয় ।

***