বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ:-

 

♦ বালিয়াড়ি [Sandune]: বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, বালিয়াড়ি [Sandune] হল তার মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে শিলাধূলি ও বালির সৃষ্টি হয়, সেগুলি আবার কোথাও কোথাও জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ গঠন করে । বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে কোনো বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপ গঠিত হলে তাকে বালিয়াড়ি [Sandune] বলে । বালিয়াড়ি হল বালির পাহাড় । মরুভূমি ছাড়া সমুদ্র উপকূলেও বালিয়াড়ি দেখা যায় (যেমন, দিঘা বালিয়াড়ি) । তবে সমুদ্র উপকূলের বালিয়াড়ি সাধারনত আকারে ছোটো হয় । বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে বালিয়াড়ি গতিশীল হয় । বালিয়াড়ি কখনো ভাঙ্গে আবার কখনো গড়ে, আবার আকৃতির পরিবর্তন ঘটায় । রাজস্থানের মরুভূমিতে এরূপ চলন্ত বালিয়াড়িকে ধ্রিয়ান বলা হয় । 

 

♦ তির্যক বালিয়াড়ি [Tranverse Dune]: বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, বালিয়াড়ি [Sandune] হল তার মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে শিলাধূলি ও বালির সৃষ্টি হয়, সেগুলি আবার কোথাও কোথাও জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ গঠন করে । বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে কোনো বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপ গঠিত হলে তাকে বালিয়াড়ি [Sandune] বলে । বালিয়াড়ি হল বালির পাহাড় । মরুভূমি ছাড়া সমুদ্র উপকূলেও বালিয়াড়ি দেখা যায় (যেমন, দিঘা বালিয়াড়ি) । তবে সমুদ্র উপকূলের বালিয়াড়ি সাধারনত আকারে ছোটো হয় । বায়ুপ্রবাহের গতিপথে আড়াআড়িভাবে যে সব বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে তাকে তির্যক বালিয়াড়ি [Tranverse Dune] বলে ।

 

♦ অণুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি [Longitudinal Dune]: বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, বালিয়াড়ি [Sandune] হল তার মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে শিলাধূলি ও বালির সৃষ্টি হয়, সেগুলি আবার কোথাও কোথাও জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ গঠন করে । বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে কোনো বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপ গঠিত হলে তাকে বালিয়াড়ি [Sandune] বলে । বালিয়াড়ি হল বালির পাহাড় । মরুভূমি ছাড়া সমুদ্র উপকূলেও বালিয়াড়ি দেখা যায় (যেমন, দিঘা বালিয়াড়ি) । তবে সমুদ্র উপকূলের বালিয়াড়ি সাধারনত আকারে ছোটো হয় । বায়ুপ্রবাহের গতিপথের সমান্তরালে যে সব বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে তাদের অনুদীর্ঘ বালিয়াড়ি [Longitudinal Dune] বলে ।

 

♦ বার্খান[Barkhan]: বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, বালিয়াড়ি [Sandune] হল তার মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে শিলাধূলি ও বালির সৃষ্টি হয়, সেগুলি আবার কোথাও কোথাও জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ গঠন করে । বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে কোনো বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপ গঠিত হলে তাকে বালিয়াড়ি [Sandune] বলে । বালিয়াড়ি হল বালির পাহাড় । মরুভূমি ছাড়া সমুদ্র উপকূলেও বালিয়াড়ি দেখা যায় (যেমন, দিঘা বালিয়াড়ি) । তবে সমুদ্র উপকূলের বালিয়াড়ি সাধারনত আকারে ছোটো হয় । বালিয়াড়ির অন্যতম একটি বিশেষ শ্রেণি হল বার্খান [Barkhan] । ‘বার্খান’ একটি তুর্কি শব্দ, এর অর্থ হল ‘কিরঘিজ স্টেপস্‌’ অঞ্চলের বালিয়াড়ি । উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের গতিপথে বালিয়াড়ি অর্ধ-চন্দ্র আকারে বিরাজ করে । এই রকম বালিয়াড়িকে বার্খান [Barkhan] বলা হয় । বার্খানের সামনের দিকে উত্তল এবং পিছনের দিক অবতল আকৃতির হয়ে থাকে । এছাড়া, বার্খানের দুই প্রান্তে অর্ধচন্দ্রকারে দুটি শিং-এর মতো শিরা অবস্থান করে । এইসব বালিয়াড়ি বায়ুর গতির দিকে ক্রমশ ঢালু ও বিপরীত দিকে ক্রমশ খারাই হয় । যে সব মরু অঞ্চলে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়, সেখানে বার্খানের সৃষ্টি হয়ে থাকে । বার্খানগুলির সবচেয়ে বেশি উচ্চতা হয় সাধারণত ১৫ মিটার এবং প্রস্থ ৪০-৭০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে । তবে অনেকক্ষেত্রে এরা ২০-৩০ মিটার উঁচু এবং ১৪০ মিটার বা তার বেশি চওড়া হয় ।

 

♦ সীফ বালিয়াড়ি [Seif Dune]বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, বালিয়াড়ি [Sandune] হল তার মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে শিলাধূলি ও বালির সৃষ্টি হয়, সেগুলি আবার কোথাও কোথাও জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ গঠন করে । বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে কোনো বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপ গঠিত হলে তাকে বালিয়াড়ি [Sandune] বলে । বালিয়াড়ি হল বালির পাহাড় । মরুভূমি ছাড়া সমুদ্র উপকূলেও বালিয়াড়ি দেখা যায় (যেমন, দিঘা বালিয়াড়ি) । তবে সমুদ্র উপকূলের বালিয়াড়ি সাধারনত আকারে ছোটো হয় ।  এগুলি আরবদের লম্বা সরু তলোয়ারের মতো দেখতে হয় । তাই এই বালিয়াড়ির নাম সিফ । তীবতা ঘূর্ণি বায়ুর আঘাতে পরপর অনেকগুলি বালিয়াড়ি ভেঙ্গে গেলে বায়ুপ্রবাহের গতিপথে বেশ সংকীর্ণ কিন্তু খুব লম্বা বালিয়াড়ি তৈরি হয় । এই রকম দীর্ঘ্ অথচ সংকীর্ণ বালিয়াড়িকে সিফ বালিয়াড়ি [Seif Dune] বলে । স্থায়ী বালিয়াড়ির মধ্যভাগ বায়ুপ্রবাহের ফলে ভেঙে সিফ বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয় । এরকম বালিয়াড়ির দৈর্ঘ কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এবং উচ্চতা ১০০ মিটারের্ব বেশি হয় । পরস্পর সমান্তরালভাবে একাধিক সিফ বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে।

 

♦ লোয়েস সমভূমি [Loess Plain] : বায়ুপ্রবাহের পরিবহন ও সঞ্চয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, লোয়েস সমভূমি [Loess Plain] হল তার মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । অতিসূক্ষ্ম বালিকণা, মাটির কণা বা মৃত্তিকা বায়ুর দ্বারা পরিবাহিত হয়ে মরুভূমি সীমানার অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে জমা হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে লোয়েস সমভূমি [Loess Plain] । এর রং হলদে । কিন্তু এই মাটি খুবই উর্বর ।

উদাহরণ: মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে শীতকালীন উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বাহিত হয়ে বিপুল পরিমাণে লোয়েস মৃত্তিকা উত্তর চিনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চিত হয়ে সেখানে এক বিস্তীর্ণ ও উর্বর লোয়েস সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে ।

 

প্লায়া হ্রদ [Playa] :  প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে মরুভূমির বালি অপসারিত হয়ে ছোটো-বড়ো অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়। এই গর্তগুলো কখনো কখনো খুব গভীর হয়ে ভূগর্ভের জলস্তরকে স্পর্শ করে । তারপর যখন ভূগর্ভস্থ জল ও বৃষ্টির জল জমা হয়ে সেখানে হ্রদের সৃষ্ঠি হয় । মরুভূমির প্রখর তাপে অত্যধিক বাষ্পীভবনের জন্য সাধারণত এই সব হ্রদের জল লবণাক্ত হয়ে থাকে । এই ভাবে যে হ্রদ সৃষ্টি হয় তাকে লবণ হ্রদ বলে । এই সব লবণ হ্রদ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্লায়া হ্রদ [Playa] ও আফ্রিকায় শটস [Shotts] নামে পরিচিত ।

রাজস্থানের সম্বর হ্রদ হল প্লায়া হ্রদের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, এই অঞ্চলে প্লায়া হ্রদগুলি ধান্দ নামে পরিচিত ।

 

► মরু অঞ্চলে সামান্য বৃষ্টির জলে সৃষ্ট সাময়িক নদী প্রবাহ যেসব নুড়ি, বালি, পলি প্রভৃতি জমা করে সমতল জায়গা গঠন করে তা বাজাদা [Bajada] নামে পরিচিত । এখানকার পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলের ক্ষয়প্রাপ্ত প্রায় সমতলভূমিকে পেডিমেন্ট [Piedmont] বলে ।

***