করুণাময় যিশুখ্রিস্ট

Submitted by administrator on Sun, 12/24/2017 - 09:06

 করুণাময় যিশুখ্রিস্ট :- যীশুখ্রীস্ট

জাতির জীবন যখন কুসংস্কারের ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, যখন চারিদিকে অন্যায় ও অসত্যের রাহুগ্রাসে কবলিত হয়,  যখন দুর্বলের উপর প্রবলের সীমাহীন অত্যাচার ও নিপীড়নে সাধারণ মানুষ দিশাহারা ও উদ্ভ্রান্ত হয়, তখন আসে সেই শুভক্ষণ, মহাজন্মের শুভলগ্ন, আবির্ভুত হন জোতির্ময় পুরুষ । যিনি আলোকপথের দিশারী । ঈশ্বরপুত্র পরম করুণাময় যিশুখ্রিস্টের আবির্ভাব ঘটেছিল এই রকম এক অস্থিরময় সময়ে ।

জেরুজালেমের নিকটে বেথলিহেমের এক আস্থাবলে কুমারী মা মরিয়মের কোলে জন্ম নিলেন এক মহামানব-যিশুখ্রিস্ট । অভাব অনটনের সংসারে নিয়মিত পঠনপাঠনের সুযোগ পান নি যিশু । পিতা জোসেফের জীবিকা বেছে নিয়েছিলেন । কর্মসূত্রে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থের জ্ঞান আহরণ করেন । তাঁর দিব্য দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রেম স্পর্শে বহু মানুষ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন । দুঃখী, সর্বহারা মানুষ তাঁর সান্নিধ্যে পেত বাঁচার আশ্বাস ও দুঃখ জয়ের মন্ত্র ।

জন্মসুত্রে যিশু ছিলেন ইহুদি সম্প্রদায়ের । দলে দলে ইহুদিরা তাঁর প্রেম ধর্মে দীক্ষিত হতে লাগলেন । ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে যিশু অন্ধকে দিলেন দৃষ্টি শক্তি, খঞ্জকে দিলেন চলার ক্ষমতা, মৃতকে দিলেন জীবন । পৃথিবীর সমস্ত সর্বহারা, দুঃখী মানুষ, আর্ত, পীড়িত মানুষ তাঁর কাছে এসে শান্তি পেল । তিনি সর্বদা দুঃখীর পাশে দাঁড়িয়ে তার অশ্রু মোচনের কথা বলেছেন । বলেছেন আর্ত মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই মনুষ্যজীবনের সার্থকতা । তিনি ক্ষমতার আধার । তিনি বলেছেন পীড়িত মানুষের সেবাই ঈশ্বরের আরাধনা ।

সত্যদ্রষ্টা এইরকম পবিত্র ক্ষমাশীল চরিত্রের জনপ্রিয়তা দিনের পর দিন বাড়তে থাকবে তাতে কোনো আশ্চর্যের ব্যাপার হতে পারে না । কিন্তু সমাজের স্বার্থান্ধ প্রভাবশালীদের স্বার্থে আঘাত লাগল । তারা নানাভাবে যিশুকে বিব্রত করার চেষ্টা করতে লাগল । তাঁর বিরুদ্ধে চলল হীন ষড়যন্ত্র । তিনি দেশের রাজা হতে চাইছেন একথা বলে রোমান শাসক হেরডকে ক্ষিপ্ত করে তুলল । শেষ পর্যন্ত যিশুরই শিষ্য জুডাসের বিশ্বাস ঘাতকতায় যিশুকে ধরা পড়তে হয় । অকথ্য অত্যাচারের পর ক্রুশবিব্ধ করে হত্যা করা হল । সেই রক্তাক্ত মুহুর্তেও মৃত্যু যন্ত্রনাকে তুচ্ছ করে তিনি শত্রুকে ক্ষমা করে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন – “হে পিতা; তুমি এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কি করছে ।“

ধরার ধুলিকণা যখন কলঙ্কের কালিমা লিপ্ত হয় তখনই যিশুর মত মহামানবের আবির্ভাব হয় । নিজ কন্ঠে সমস্ত কালিমার গরল ধারণ করে নীলকন্ঠ হয়ে পৃথিবীকে বিষমুক্ত করে যান যুগে যুগে মহামানবেরা । তাঁদের দেখানো আলোয় পৃথিবীর মানুষ খুঁজে পায় আলোর দিশা । পৃথিবী আরো সুন্দর হয়ে ওঠে ।

***

Related Items